কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চাহিদামত সার না পেয়ে ডিলারের লোকজন ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় বাগবিতন্ডা ও হট্টগোল জড়িয়ে পড়েছেন কয়েকশত কৃষক।
গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনবাজার এলাকার বিসিআইসি ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় দোকান ঘর বন্ধ করে সটকে পড়েন ডিলারের লোকজন। এ ছাড়া উপস্থিত কৃষকদের মঙ্গলবার ন্যায্যমূল্যে সার দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম নামের তালিকা তৈরি করেন কৃষি কর্মকর্তারা। ঘটনাটি ঘটে কুমারখালী শহর-পান্টিবাজার সড়কের নিদেনবাজার এলাকায় অবস্থিত বিসিআইসির অনুমোদিত লেক্সাস ইন্টারন্যাশনাল নামের সারের ডিলার পয়েন্টে।
কৃষকরা জানান, সেখানে সার নিতে আসেন কয়েক শত নানাবয়সি কৃষক। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে, লাইন বাদে সার প্রদান, চাহিদামত সার না দেওয়া এবং কৃষক বাদ রেখে সাব ডিলারদের আগে সার দেওয়া নিয়ে তারা থেমে থেমে বাগবিতন্ডা ও হট্টগোলে জড়িয়ে পড়ছেন। দুপুর ১২টার দিকে সেখানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কাওসার আলীসহ কয়েকজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপস্থিত হন। তখন কৃষকরা কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে এক বস্তা করে ন্যায্যমূল্যে সার প্রদান শুরু করা হয়। এরপর দুপুর একটার দিকে ডিএপি সার শেষ ফুরিয়ে গেলে ফের শুরু হয় বাগবিতন্ডা, হট্টগোল ও হৈচৈ। এ সময় দোকান বন্ধ করে সটকে পড়েন ডিলারের লোকজন। পরে মঙ্গলবার সার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অন্তত ৪৪ জনের নাম লিপিবদ্ধ করেন কৃষি কর্মকর্তারা।
হট্টগোল ও হৈচৈয়ের কথা স্বীকার করে যদুবয়রা বিসিআইসি সার ডিলার পয়েন্টের ব্যবস্থাপক মো. মুসা বলেন, এখন ডিএপি সারের চাহিদা বেশি। ৩৯৯ বস্তা ডিএপি সার ছিল। নিয়ম অনুযায়ী ৫০ বস্তা ডিলাররা নিয়ে গেছে। বাকি সার লাইন ধরিয়ে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকের অতিরিক্ত চাপ থাকায় দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কাওসার আলী বলেন, সাব ডিলাররা আগে সার নেওয়ায় এবং লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে কৃষকরা কয়েকদফা উত্তেজিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পরে তাদের মঙ্গলবার সার প্রদানের আশ্বাস দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম। কুমারখালী উপজেলায় কৃষিজমির পরিমাণ ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে চার হাজার ৯২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। চলতি মাসে ৩৫০ মেট্রিক টন টিএসপি, ৪৫০ মেট্রিক টন ডিএপি, ৩০০ মেট্রিক টন এমওপি এবং এক হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে। ডিসেম্বর মাসেও সমপরিমাণ বরাদ্দ ছিল এই উপজেলায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, যদুবয়রা ডিলার পয়েন্টে হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। সার নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।