লক্ষ্মীপুর রাপুয়র পৌর শহরে জলাবদ্ধতা কমাতে দুই বছর আগে নতুন বাজার-মহিলা কলেজ সড়ক এলাকায় একটি ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে চার দফায়। তবু কাজ শেষ হয়নি। এখন নতুন করে মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসন এই প্রকল্প এখন পৌর শহরের বাসিন্দাদের গলার কাঁটা।
জানা যায়, রায়পুর পৌর শহরের নতুন বাজার মহিলা কলেজ সড়ক ও ড্রেনেজ নির্মাণের ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকার দরপত্রের মাধ্যমে মেসার্স রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং কাজটির টেন্ডার পায়। নির্মাণে দীর্ঘ সময় ও ভোগান্তির কারণে ওই এলাকার প্রায় সবার ব্যবসায় ধস নেমেছে।
সমস্যার কথা পৌর কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আসলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। সড়কটির অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাওয়ায় এই এলাকায় বর্ষায় কাদাপানি, হাঁটুপানি, শুকনা মৌসুমে ধুলাবালি আর নিত্য যানজটের কারণে মানুষ এই এলাকা এড়িয়ে চলেন। ফলে ক্রেতারা কম আসেন।
এই সড়ক দিয়েই প্রতিদিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। প্রসূতি মাসহ অসুস্থ রোগীদেরও এই সড়ক দিয়েই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। কিন্তু ঠিকাদার নিজের ইচ্ছে মতো ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ করায় কাজের অগ্রগতি হয়েছে ৩০ শতাংশ। ৩য় বারের মতো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারিতেও কাজ শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ড্রেনেজ কাজ ফেলে রাখায় সড়কটির অবস্থা দিন দিন আরও চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারী, শিক্ষার্থী, অফিসগামী, রোগীসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। চরম দুর্ভোগ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরাসহ বাসিন্দারা।
রায়পুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ঠিকাদার কাজটি শুরু করেছেন প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি। কাজের ধীরগতি হওয়ায় একাধিকবার সময় বৃদ্ধি করেছেন। ফের আবারও নতুন সময় দেয়া হয়েছে তাকে। তবে এই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ করা যাবে না। কারণ কাজের বর্তমান অগ্রগতি হয়েছে ৩২ ভাগ। তবে দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা চেষ্টা করছি কাজটি দ্রুত শেষ করার।