ঘুমের মাঝেই থেমে গেল জীবন
রাজশাহীর পদ্মার চরে আবারও রক্তাক্ত সহিংসতা। গভীর ঘুমের স্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ গুলির শব্দ। একটি ঘরের ভেতরেই নিভে গেল এক যুবকের জীবন। রাতের আঁধারে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের হানায় শুধু একজন মানুষই নয়, ভেঙে পড়েছে একটি পরিবার; রক্তাক্ত হয়েছেন স্ত্রী ও শিশু কন্যা। সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে পুরনো সহিংসতার আগুন আবারও জ্বলে উঠেছে, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় ঢেকে গেছে পদ্মার তীর।
রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে রাতের আধারে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে ঘুমন্ত অবস্থায় সোহেল রানা (৩৫) নামের এক যুবক হত্যা করা হয়েছে। গুলিতে সোহেল রানার স্ত্রী ও মেয়ে আহত হয়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরে এই ঘটনা ঘটেছে। সোহেল রানা পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মন্ডলের ছেলে।
নিহত সোহেল রানার ভাই জানান, রাতে সোহেল ও তার স্ত্রী ঘরের ভেতরে শুয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাড়ির টিনে একাধিকবার আঘাত করে বিকট শব্দ সৃষ্টি করে। এতে আশপাশের লোকজনের ঘুম ভেঙে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজন ছোটাছুটি শুরু করলে সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে, কেউ এগিয়ে এলে তাকে গুলি করা হবে।
এরপর সন্ত্রাসীরা সোহেল রানার বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এ সময় সোহেলের স্ত্রী স্বামীকে রক্ষা করার জন্য কাঁথা ও কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন। তবে সন্ত্রাসীরা ঘরের টিন কেটে ভেতরে ঢুকে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির একটি সোহেল রানার পেটে লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। গুলির আঘাতে তার স্ত্রী ও মেয়ে আহত হন।
২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্তের পদ্মার চরের নীচখানপুরের হবির চরের দক্ষিণে চৌদ্দহাজার মাঠ এলাকার সংযোগস্থল পদ্মার চরে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনায় খানপুরের মিনহাজ মন্ডলের ছেলে আমান মন্ডল (৩৬), একই গ্রামের শুকুর মন্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩৩) নিহত হয়। পরের দিন ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেন নামের আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় ও পুলিশের ধারণা আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘কাকন বাহিনী’র লোকজন এসে অর্তকিতভাবে গুলি ছুঁড়ে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, আগের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুরবৃত্ব রাতের আঁধারে বাড়িতে ঢুকে সোহেল রানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।