কুমিল্লার দেবীদ্বারে গোমতী নদীর বিভিন্ন অংশে মাটি খেকুদের ভয়াবহ দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গভীর রাতে শতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে নির্বিচারে চর ও নদীতীর কেটে নেয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে গোমতী নদীর রক্ষা বাঁধ ও আশপাশের জনপদ।
গত শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার ৬নং ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় মাটি কাটা প্রতিরোধ করতে গিয়ে স্থানীয় ছাত্র-জনতার সঙ্গে মাটিখেকুদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র এএসপি, থানার ওসি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মো. ইমন (১৯) নামে এক মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চালককে আটক করা হয়। তাকে বিনাশ্রম তিন মাসের কারাদ- দেয়া হয় এবং দুটি মাটি ভর্তি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গোমতী নদীর দেবীদ্বার অংশের জাফরগঞ্জ, কালিকাপুর, চরবাকর, লক্ষ্মীপুর, বারেরার চর, খলিলপুর, বড় আলমপুর, বিনাইপাড়, ভিংলাবাড়িসহ প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি স্পটে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ইটভাটা ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রাজনৈতিক নেতা জানান, এসব কর্মকা-ে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, নেতৃত্ব বদলালেও অবস্থা বদলায়নি।
ভুক্তভোগী বালিবাড়ি গ্রামের রিকশাচালক আব্দুর রহিম বলেন, বেড়িবাঁধের পাশে আমার ঘর। গভীর রাতে ট্রাক্টরের বিকট শব্দে ঘুমানো যায় না। সকালে দেখি ঘরবাড়ি ধুলায় ভরে গেছে। শিশুরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছে, কিন্তু প্রতিবাদ করার সাহস নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সাল উদ্দিন বলেন, কোনোভাবেই মাটিখেকুদের পুরোপুরি প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তারা গভীর রাতে তৎপর হয় এবং বেতনভোগী ইনফরমারের মাধ্যমে আমাদের গতিবিধি নজরদারি করে। আমরা পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়।