ঝিনাইদহে নারীকে ধর্ষণ, গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় এক নারীকে (৪৪) ধর্ষণ ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোমবার, (০৫ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি হাসান (৪৫) কালীগঞ্জ পৌরসভার একটি গ্রামের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী নারী তার ১০ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে একই গ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কথা বলে জানা গেছে, দুই বছর আগে ওই গ্রামের শাহীন নামে এক ব্যক্তির ভাইয়ের কাছ থেকে জমিসহ বাড়ি কিনে সন্তানসহ বসবাস শুরু করেন স্বামী মারা যাওয়া ওই নারী। গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর তার বাড়িতে দুই পুরুষ আত্মীয় আসেন। এ সময় তাদের দেখার নামে আসামি শাহীন ও হাসান ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা দুই আত্মীয়কে একটি কক্ষে আটকে রেখে নারীকে আরেকটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী ও আত্মীয় দুজনকে বাড়ির বাইরে নিয়ে ‘কুকর্মের’ অভিযোগ এনে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় ওই নারীর চুল কেটে মারধর করেন শাহীন ও হাসান।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘শাহীনের ভাইয়ের কাছ থেকে বাড়িসহ জমি কেনার পর থেকেই আমার পিছু লাগে সে। এখানে আসার পর থেকেই আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময় আমার কাছে টাকাও দাবি করেছে শাহীন। গত বুধবার সন্ধ্যার পর আমি ও আমার ছেলে বাড়িতে ছিলাম। ওই দিন আমার বাড়িতে দুজন আত্মীয় আসে। কুকর্মের মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে আত্মীয়দের একটি কক্ষে আটকে রেখে আরেকটি কক্ষের মধ্যে নিয়ে আমাকে প্রথমে শাহীন ও পরে হাসান ধর্ষণ করে। পরে ঘরের বাইরে বের করে আত্মীয়সহ আমাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন,সোমবার বিকেলে ওই নারী থানায় এজাহার জমা দিলে মামলা রেকর্ড করা হয়। ইতোমধ্যে পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ওই নারী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মামলা নথিভুক্ত হতে দেরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি