image

অভ্যুত্থানে নিহত, এলাকার ওসি-এসপিদের নামে মামলা করবে বৈষম্যবিরোধীরা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব থানা এলাকায় ছাত্র-জনতা ‘শহীদ’ হয়েছেন সেগুলোর ওসি ও এসপি থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নামে মামলা করতে চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনে নেতৃত্ব দেয়া সংগঠনটি ওই সময়ের এসব কর্মকর্তাদের তালিকা করার কথাও বলেছে। গত রোববার সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তালিকাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া হবে।

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে সম্প্রতি ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে ওসিকে হুমকি দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে এমন পদক্ষেপের কথা জানালো সংগঠনটি। হবিগঞ্জের ওই নেতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত শনিবার রাতে শাহবাগ অবরোধের পর দুই দফা দাবিও জানিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গত রোববার সকালে মাহদী জামিন পেয়েছেন।

সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এসে রিফাত রশিদ শাহবাগে দেয়া দুই দফা কর্মসূচির সঙ্গে আরও এক দফা যুক্ত করে তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সারাদেশে যে যে থানার অধীনে ছাত্র-জনতাকে শহীদ করা হয়েছে, সেসব থানার ওসি এবং এসপি থেকে শুরু করে তদূর্ধ্ব কমান্ডিং অফিসারদের তালিকা তৈরি করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই তালিকা আইসিটি ট্রাইব্যুনালে জমাপূর্বক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তাদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো প্রকার টালবাহানা নয়, এবার যেটা আমাদের হাদি ভাই বলে গিয়েছিলেন, কোনো টালবাহানা নয়, অ্যাকশন হবে অ্যাকশন!। আমরা এখন অ্যাকশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘ইনডেমনেটির যে অর্ডিন্যান্স, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিশ্চিত করতে আইন উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে অবিলম্বে মতবিনিময় করে তাদেরকে চাপ দিয়ে তা জারি করতে বাধ্য করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সেই কাজ আজকে থেকে ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। আমাদের যখনই কোনো প্রকার আপডেট আসবে, আমরা আপনাদেরকে জানাবো। আমরা আশা করবো বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আমাদের পাশে থাকবে।’

তাদের তিন দফা দাবি হলো- ১. শুধু জামিন নয়, মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তগঞ্জ থানার ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। ২. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকা-ের জন্য দায়মুক্তি প্রদান করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। ৩. জুলাই বিপ্লবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী সহ সামরিক, আধা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সব কর্মকর্তা, সৈনিক ও কর্মচারীদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে হবে, তাদের সম্মাননা, স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে তাদের হয়রানি বন্ধে একটি স্থায়ী কমিশন গঠন করতে হবে। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্যাসিবাদের রোষানলে পরে সশস্ত্র বাহিনীতে পদোন্নতি বঞ্চিত অফিসারদের দ্রুত পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল পদগুলোতে পদায়ন করতে হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» শ্রেষ্ঠ সমাজসেবা পদক পেলেন তারাগঞ্জের কর্মকর্তা

সম্প্রতি