পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে স্বামী মোবাইল ফোনে অন্য মেয়ের সঙ্গে কথা বলা, প্রেমের সম্পর্ক এবং পারিবারিক কলহের জেরে কুলসুম আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।
গত রোববার রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত কুলসুম ওই গ্রামের আনসার গাজীর মেয়ে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সাইমন (২৫) পলাতক রয়েছেন। সাইমন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার চাষাপাড়া এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে কুলসুম আক্তার তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর গত শনিবার তার স্বামী সাইমন সেখানে আসেন। ঘটনার দিন রাতে তারা ঘরের দোতলায় অবস্থান করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন উপরে গিয়ে দেখেন কুলসুমের নিথর দেহ পড়ে আছে এবং সাইমন সেখান থেকে উধাও।
প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, নিহতের স্বামী মোবাইল ফোনে অন্য মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া এবং পারিবারিক কলহের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটেছে। লাশের পাশে পড়ে থাকা একটি ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে কুলসুমকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়। নিহতের ঘাড়ে দাগ ও রক্তের আলামত রয়েছে।
স্বজনরা জানান, সাইমনের সঙ্গে এটি কুলসুমের দ্বিতীয় বিবাহ ছিল। কুলসুমের ৪ বছর বয়সি একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ? মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত করেই হত্যাকারী পালিয়ে গেছে। ঘাতক স্বামী সাইমনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।