নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়া প্রায় এক মণ ওজনের একটি বিরল প্রজাতির গঙ্গা কাছিম পুনরায় নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ধরা পড়া কাছিমটি পরে এলাকাবাসী জোয়ারের সময় কাছিমটিকে নদীতে অবমুক্ত করা হলে সেটি স্রতের সঙ্গে মেঘনা নদীর গভীর অংশে চলে যায়। জানা গেছে, গত রোববার রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের আজমার খাল এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝির জালে ওই কাছিমটি ধরা পড়ে। জাল টানার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ অতিরিক্ত ভার অনুভব হলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে জাল তুলে বিশাল আকৃতির কাছিমটি দেখতে পান তিনি। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরকিং ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পাড়ে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। স্থানীয় লোকজন কাছিমটি এক নজর দেখার জন্য নদীর পাড়ে জড়ো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ শেখ ফরিদ জানান, এর আগে কখনো এত বড় আকৃতির কচ্ছপ দেখিনি। মেঘনা নদীতে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কচ্ছপ দেখা গেলেও এত বড় আকারের কচ্ছপ খুবই বিরল। নিজের চোখে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি।
জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি বলেন, মাছ ধরার জন্য মেঘনা নদীতে জাল ফেলেছিলাম। জাল তুলতে গিয়ে দেখি খুবই ভারী কিছু জালে আটকা পড়েছে। জাল তুলে দেখি বিশাল আকৃতির একটি কচ্ছপ। জীবনে এত বড় কচ্ছপ আগে কখনও দেখিনি। এলাকার সবাই মিলে আজ সোমবার মেঘনা নদীতে কচ্ছপটি ছেড়ে দেয়। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, এই প্রজাতির কাছিম সাধারণত ৭০ থেকে ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এটি একটি বিরল ও প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতি।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এসব প্রাণীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেদের জালে এ ধরনের প্রাণী ধরা পড়লে তা অবমুক্ত করার জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থি কোনো কাজের সুযোগ নেই। কচ্ছপটি অবমুক্ত করার জন্য জেলে ও এলাকাবাসীকে সাধুবাদ জানান ওই মৎস্য কর্মকর্তা।