ভোলার লালমোহন উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন কৃষকরা। যার ফলে মৌসুম শেষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই উপজেলায় আমন মৌসুমে ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, লালমোহনে এবারের আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং ৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়। এসব জমিতে আমন মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। প্রতি মন গড়ে ৯০০ টাকা বাজার দরে মোট ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয় এই আমন মৌসুমে।
কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল জানান, এ বছরের আমন মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ এবং ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান-১১ ও ব্রি-ধান-৫২ আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অতি বৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে জমিতে চারা রোপণের পর আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যার জন্য ফলন ভালো পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।
লালমোহন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবারের আমন মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। জমির সব ধান এরইমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। ২০০ শতাংশ জমি থেকে ধান পেয়েছি দেড়শ মণ। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি করেছি ৯২০ টাকায়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। যার ফলে এই উপজেলায় কিছুটা দেরিতে ধানের আবাদ হয়েছে। দেরিতে ধানের আবাদ হলেও কৃষকরা তাদের জমি থেকে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন।
এর মাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই উপজেলায় অধিক গড় ফলন অর্জন সম্ভব হয়েছে। পুরো আমন মৌসুমে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন। এ ছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণও দেয়া হয়েছে।