image

কেরুজ চিনিকলে বন্ধ আখ মাড়াই, কৃষকদের ক্ষোভ

প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা

দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রতীক্ষা ও ১০২ কোটি টাকার ব্যয়েও কেরুজ চিনিকলের আধুনিকায়ন কার্যক্রম এখন বড় ধরনের সংকটের জন্ম দিয়েছে। নতুন যন্ত্রপাতিতে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলতি আখ মাড়াই মৌসুমে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মাত্র ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ৫৩ ঘণ্টাই আখ মাড়াই বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক, পরিবহন চালক এবং মিল কর্তৃপক্ষ।

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা বিপুল পরিমাণ আখ সময়মতো মাড়াই না হওয়ায় মিল চত্বর ও আশপাশের এলাকায় রোদে পুড়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে আখের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে দফায় দফায় বিক্ষোভে নেমেছেন ট্রাক ও ট্র্যাক্টর চালকসহ আখচাষিরা।

২০২৫-২৬ আখ মাড়াই মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় গত ৫ ডিসেম্বর। শুরুতে আধুনিকায়নকৃত কারখানায় আখ মাড়াই শুরুর সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় পুরোনো মিলেই কার্যক্রম শুরু করতে হয়। ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ক্লিন শেষ হওয়ার পর ১ জানুয়ারি নতুন কারখানায় আখ মাড়াই শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেখা দেয় একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি।

মিল সূত্র জানায়,৩১ ডিসেম্বর ৬ ঘণ্টা, ১ জানুয়ারি ২৩ ঘণ্টা,২ জানুয়ারি ৬ ঘণ্টা,৩ জানুয়ারি ১৫ ঘণ্টা এবং ৪ জানুয়ারি প্রায় ৩ ঘণ্টা,এই সময়গুলোতে মিল হাউজ, বয়লার ও টারবাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে সমস্যার কারণে আখ মাড়াই সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।

মিলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পাওয়ার ট্রলিতে আনা আখ ওজনের পর মাটিতে ঢেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। মিলের নিজস্ব ট্র্যাক্টরে আনা আখও গাড়িতেই পড়ে থাকছে দীর্ঘ সময়। এতে আখ শুকিয়ে যাচ্ছে, বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা। ক্ষুব্ধ কৃষক ও চালকরা একাধিকবার মিল ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন।

১৩ বছরেও শেষ হয়নি আধুনিকায়নের কাজ, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কেরুজ চিনিকল একসময় ছিল এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। তবে বছরের পর বছর পুরোনো ও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভর করে উৎপাদন চালাতে হয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তনে ২০১২ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে আধুনিকায়নের জন্য প্রথমে ৪৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে একাধিক সংশোধনের মাধ্যমে বরাদ্দ বেড়ে দাড়ায় ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকায়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হলেও সাব-কন্ট্রাক্ট নেয় ভারতের সায়সিদা সুগার ইকুইমেন্ট কোম্পানিকে পরে এই কোম্পানি দায়িত্ব ছেড়ে দিলে নতুন করে দায়িত্ব নেন উত্তম এনার্জি লিমিটেড প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত দুই বছরের পরিবর্তে প্রকল্পটি গড়িয়েছে ১৩ বছর। এ পর্যন্ত সাতবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত আর্থিক অগ্রগতি দেখানো হয়েছে ৭৮ দশমিক ৩২ শতাংশ।

কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আধুনিকায়নকৃত কারখানায় আখ মাড়াই চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। যান্ত্রিক সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» নিপা ভাইরাস: খেজুরের কাঁচারস ও বাদুড়ে খাওয়া আধাফল না খাওয়ার পরামর্শ

» ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে দুই দফা সন্ত্রাসী তা-বে ৭ শতাধিক আসামির বিরুদ্ধে মামলা হলেও ৯ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

» ৪ বিভাগ ও ১২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

» শ্রেষ্ঠ সমাজসেবা পদক পেলেন তারাগঞ্জের কর্মকর্তা

সম্প্রতি