পৌষের শেষে জেঁকে বসেছে শীত। সোমবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দশ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুকের মতে, এই অবস্থা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ১১ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে শীতের দাপট কমতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলার উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কয়েকদিন এটি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শৈত্যপ্রবাহ আরো বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তাপমাত্রা অতটা না নামলেও কুয়াশার কারণে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি জানান, শীত পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই থাকবে।
আগামী পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গল থেকে শনিবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এই পাঁচ দিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
মঙ্গল ও বুধবার কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এ দুইদিন কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে সারাদেশে শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে।
তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। শুক্রবার সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং শনিবার প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বাংলাদেশে শীতের দাপট মূলত জানুয়ারি মাসজুড়েই থাকে। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল। এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শৈত্যপ্রবাহের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বড় এলাকা জুড়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। থার্মোমিটারের পারদ ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে এলে তা মাঝারি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।