বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকরা আলু গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলায় আলুক্ষেতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করছেন চাষিরা। সেচ দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক স্প্রে ও মাটি দিয়ে বেধেঁ দেয়া সহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুরের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শেরপুরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গত বছরে বড় ধরনের লোকসান, এবারে সার সংকটসহ নানা প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে কৃষকরা আলুর জমি পরিচর্যায় চাষে ব্যস্ত। উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকিন্দা, চন্ডেশ্বর, উত্তর পেঁচুল, আকরামপুর, মির্জাপুর ইউনিয়নের মাখাইলচাপড়, তালতাসহ বিভিন্ন গ্রামের পর গ্রাম, একরের পর একর জমিতে শুধু আলুর চাষ। প্রতিদিন কয়েক হাজার পুরুষ শ্রমিক ৭শ থেকে ৮শ টাকা মজুরি ভিত্তিতে এই কাজগুলো কাজ করছেন। অন্যদিকে এই উপজেলার যারা আগাম আলু চাষ করেছিলেন তারা বাজারজাতের জন্য জমি থেকে আলু উত্তোলন করছেন, তবে তারা দাম নিয়ে একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েছেন। আগাম আলু চাষ করা কৃষক আমজাদ বলেন, গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এবার ২ বিঘা জমিতে আগাম আলু রোপণ করেছিলাম কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় এবারো লোকসানের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। পাইকারি বাজারে বর্তমানে নতুন আলু ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। মির্জাপুর ইউনিয়নের মাধাইল চাপড় গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, গত বছর ১৫০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে, আশা করছি এবার সেই লোকসান পুষিয়ে যাবে। তবে আশংকায় আছি আলুর দাম নিয়ে, কেননা এবারে আগাম জাতের নতুন আলুর দাম পড়ে গেছে। উপজেলার কুসুম্বি ইউনয়নের উত্তর পেঁচুল গ্রামের কৃষক জেল হক, ফরিদ হোসেন, খিকিন্দা গ্রামের ফারুক হোসেন বলেন, আমরা একেকজন ১০ থেকে ২৫ বিঘা আলুর চাষ করেছি। এখন গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। অন্যান্য ফসলের চাইতে তুলনামূলক আলুতে লাভবেশি। এক একর জমিতে আলু বীজ ক্রয়, রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ও শ্রমিকসহ খরচ হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারে আলুর দাম স্বাভাবিক থাকলে খরচ বাদ দিয়ে একর প্রতি ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভ হয়। গত বছর আলুচাষ করে ক্ষতিগ্রন্থ হলেও আশা করছি এবার ভালো দামে বিক্রি করতে পারব। এখন গাছের যে চেহারা তাতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন পাব বলে আশা করছি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারজানা আকতার বলেন, কৃষকরা আলুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে তারা বাম্পার ফলন পাবেন এবং লাভবান হবেন।