image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলি, গ্রেপ্তার ১

প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেলে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ভাষানপোতা গ্রামের মাঠ এলাকায় মতিয়ার রহমান মতি নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। গুলিবিদ্ধ মতি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আজিজুল ইসলাম গটুর ছেলে।

গুলিবিদ্ধ মতির ছেলে হিছাব আলী জানান, তার পিতা মামলার কেস পার্টনার মকলেছুর রহমানের সঙ্গে ঝিনাইদহ আদালতে হাজিরা শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মহেশপুরের ভৈরব বাজার এলাকায় মকলেছুর রহমানকে নামিয়ে দিয়ে একাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন মতি। এ সময় ভৈরব বাজার থেকে অস্ত্রধারী দুই দুর্বৃত্ত তার মোটরসাইকেলের পিছু নেয়। ভাষানপোতা গ্রামের মাঠ এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহামুদা জানান, মতিয়ার রহমান মতি নামের একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও সীমান্ত এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৭ জানুয়ারি মহেশপুর উপজেলার বাঘাডাঙ্গা গ্রামে সোনা চোরাচালান সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শামিম হোসেন ও মন্টু মিয়া নামে দুই ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় তরিকুল ইসলাম আকালে নামে এক চোরাকারবারির জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। সূত্রগুলো আরও জানায়, গুলিবিদ্ধ মতিয়ার রহমান মতি সীমান্ত এলাকায় সোনা ও অন্যান্য চোরাচালানের ঘাট নিয়ন্ত্রণ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও টাকার ভাগাভাগি নিয়ে তার সঙ্গে তরিকুল ইসলাম আকালের বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই সোমবার বিকেলে তরিকুল ইসলাম আকালে ও তার সহযোগী ইব্রাহীম হোসেন ওরফে ইব্রা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালায়। এর আগেও একাধিকবার মতির ওপর হামলার চেষ্টা করা হলেও সে যাত্রায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মহেশপুর-কোটচাঁদপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাঘাডাঙ্গা গ্রামের টেনা হালসানার ছেলে ইব্রাহীম ওরফে ইব্রাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

মহেশপুর থানার ওসি (তদন্ত) সাজ্জাদুর রহমান সাজু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাঘাডাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার রহমান মতি নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। গুলিটি তার পিঠের দিক থেকে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» নিপা ভাইরাস: খেজুরের কাঁচারস ও বাদুড়ে খাওয়া আধাফল না খাওয়ার পরামর্শ

» ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে দুই দফা সন্ত্রাসী তা-বে ৭ শতাধিক আসামির বিরুদ্ধে মামলা হলেও ৯ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

» ৪ বিভাগ ও ১২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

» শ্রেষ্ঠ সমাজসেবা পদক পেলেন তারাগঞ্জের কর্মকর্তা

সম্প্রতি