সিরাজগঞ্জের কৃষকরা তীব্র শীতকে উপেক্ষা করে বোরো ধান লাগানো শুরু করেছে। পৌষের কনকনে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন চারা তোলা এবং রোপণের কাজে। ধানের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা জমিতে আগে ভাগেই বোরো ধান রোপণ শুরু করেছেন। বর্তমানে জেলার অপেক্ষাকৃত নিচু ও বিল এলাকার জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো ধান ও আগাম জাতের হাইব্রিড ধান চাষা শুরু করেছে।
সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এর জন্য ৮ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির করা হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার উধুনিয়া গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান তিনি বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ধান লাগানো শুরু করেছি। তবে তীব্র শীতে জমিতে থাকা যায় না। এত শীতে কামলাও পাওয়া দুষ্কর হয়ে পরেছে। কোনো উপায় না পেয়ে তাই নিজেই চারা রোপণ করছি।
তাড়াশ উপজেলার বারুহাস এলাকার কৃষক সাহেব আলি জানান, অপেক্ষা কৃত নিচু জমি যেগুলো পানি থাকায় সরিষার আবাদ করা যায়নি সে জমিতে ধান লাগানো হচ্ছে। তবে এত শীতে পানিতে টেকা যায় না। শীতের কারণে তামলার দামও বেশি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত জানান, তার উপজেলায় এবছর বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে। আর এজন্য বীজতলা তৈরি হয়েছে ১ হাজার ৫৩০ হেক্টর। ইতোমধ্যেই অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছে কৃষকরা।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্না ইয়াসমিন সুমী বলেন, উপজেলায় এ বছরে ৩০ হাজার ৩৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ১ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিচু উধুনিয়া, সলপ, পনচোক্রোশী ও বরহর এলাকায় কৃষকরা বোরো ধান লাগানো শুরু করেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।