কুমিল্লার দেবীদ্বারে অটোরিকশাসহ নিখোঁজের পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি চালক মো. আলাউদ্দিনের (৩৫)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে তার অসহায় পরিবার। অন্ধ বাবা, অসুস্থ মা, স্ত্রী ও তিন শিশু সন্তান আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।
নিখোঁজ আলাউদ্দিন দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের মো. সুলতান আহমেদেও ছেলে। গতকাল সোমবার বিকেলে সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
পরিবারের ভাষ্যমতে, ওইদিন সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন ফুলতলী গ্রামের এক মেকারের কাছে তার অটোরিকশা মেরামত করাতে যান। মেরামতের একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি মেকারকে জানান, বাকি কাজ পরদিন করবেন, এখন যাত্রী নিয়ে ভাড়ায় বের হবেন। এরপর থেকেই অটোসহ তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ আলাউদ্দিনের পিতা সুলতান আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি একজন অচল মানুষ, এক চোখ অন্ধ, কাজ করার মতো শক্তি নেই। আমার দুই ছেলের একজন প্রবাসে, তারও কোনো খোঁজ নেই। এই সংসারের সবাই- আমি, আমার স্ত্রী, পুত্রবধূ, দুই নাতি আর এক নাতনীর ভরণ-পোষণ আলাউদ্দিনই চালাত। পাঁচ দিন ধরে ছেলেটা নেই, আমরা কীভাবে বেঁচে আছি আল্লাহই জানেন। অটো থাকুক বা না থাকুক, শুধু আমার ছেলেটাকে ফিরে পেতে চাই।’
নিখোঁজের স্ত্রী রাজিয়া আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর যদি কিছু হয়ে থাকে, তাহলে আমি তিনটা ছোট বাচ্চাকে নিয়ে কোথায় দাঁড়াব? ওদের ভবিষ্যৎ কী হবে? থানায় জিডি করেছি, কিন্তু পুলিশের তৎপরতা খুব একটা দেখছি না। শুধু বলেন, আপনারা খোঁজ নেন, আমরা কাজ করছি।’
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নিখোঁজ আলাউদ্দিনকে উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। গত শুক্রবার জিডি করার পরই মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে লোকেশন পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে ফোন বন্ধ থাকায় সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর যার সঙ্গে আলাউদ্দিনের শেষ কথা হয়েছে, তাকেও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’
স্থানীয়দের দাবি, একটি অটো নয়, একটি পরিবারের পুরো জীবন আজ নিখোঁজ। আলাউদ্দিনকে দ্রুত উদ্ধার করা না গেলে অন্ধকারে তলিয়ে যাবে একটি অসহায় পরিবার।