image
লামার গজালিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ ইটভাটা -সংবাদ

লামায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে চলছে অবৈধ ইটভাটা

প্রতিনিধি, বান্দরবান

প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার আজিজনগর এলাকায় পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। পার্ব্যতাঞ্চলে ইটভাটা পরিচালনার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে লামার গজালিয়া ইউনিয়নের নাজিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ৬নং ওয়ার্ডে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজম খানের মালিকানাধীন এসবিএম (ঝইগ) নামের একটি অবৈধ ইটভাটা দিব্যি চালু রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটাটির কাঁচামাল হিসেবে নির্বিচারে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহ করা হচ্ছে, বনজ কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং অপরিকল্পিতভাবে ইট পোড়ানোর ফলে মারাত্মক পরিবেশ ঝুঁকিতে পড়েছে পুরো পাহাড়ি জনপদ। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তোলা হয়েছে এই প্রভাবশালী নেতার অবৈধ ইটভাটা।

এই ইটভাটায় প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে পোড়ানো হচ্ছে সরকারি বনভূমির কাঠ। পাহাড় কেটে নেয়া মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। ফলে একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে বনভূমি, অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। শ্রমিকদের কম পারিশ্রমিক দিতে এই ইটভাটায় শিশু ও মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা নাগরিকদের কাজে লাগানোর অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ইট তৈরিতে পাহাড়ের মাটি ও বনজ কাঠ ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতির মুখে পড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও পথচারীরা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় চারপাশের এলাকা সারাক্ষণ ধোঁয়াশায় ঢাকা থাকে। এতে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা বাড়ছে।

অতিরিক্ত ইট বহনকারী ট্রাক চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যাতায়াতের সড়ক। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। শুধু তাই নয়, স্কুল চলাকালীন সময়েও ইটভাটার চিমনি থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো আলো-বাতাস ঢুকতে পারে না, শ্বাস নিতে কষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। তাই বিদ্যালয়ের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা সারাক্ষণ দূষিত থাকে। এতে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে বন-জঙ্গল উজাড় করায় আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ ইটভাটা চালু থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান হলেও তা সাময়িক; কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবারও কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় ইটভাটা পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর শিল্পগুলোর একটি। পাহাড় কাটা, বন উজাড় ও বায়ুদূষণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়। তারা দ্রুত অবৈধ ইটভাটা বন্ধসহ পরিবেশবান্ধব বিকল্প নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের উপর জোর দেন।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বান্দরবানে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। লামার আজিজনগর এলাকায় এসবিএম নামে একটি ইটভাটা চালুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুব শিগগিরই সেই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের লোকবল ও নিজস্ব পরিবহন সংকট রয়েছে। তাছাড়া বান্দরবান জেলা শহর থেকে প্রতিটি উপজেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা সবসময় সম্ভব হয় না। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি অবৈধ ইটভাটা বন্ধে।

এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, বান্দরবানে কোনোভাবেই অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করতে দেয়া হবে না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধভাবে কিছু ইটভাটা পরিচালনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। পার্বত্য এলাকায় পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ইটভাটার কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» নিপা ভাইরাস: খেজুরের কাঁচারস ও বাদুড়ে খাওয়া আধাফল না খাওয়ার পরামর্শ

» ডিমলায় আনসার ক্যাম্পে দুই দফা সন্ত্রাসী তা-বে ৭ শতাধিক আসামির বিরুদ্ধে মামলা হলেও ৯ দিনেও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

» ৪ বিভাগ ও ১২ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বদলগাছীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

» শ্রেষ্ঠ সমাজসেবা পদক পেলেন তারাগঞ্জের কর্মকর্তা

সম্প্রতি