পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক বাড়ির রান্নাঘর থেকে শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার চাচা ও বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে চাচার দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, ‘অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায়’ ১১ বছরের মেয়েটিকে ‘হত্যার পরিকল্পনা’ করেন তার বাবা। পরে চাচাতো ভাইকে দিয়ে নিজ সন্তানকে ‘হত্যা এবং লাশ গুম করার চেষ্টা’ করেন।
রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটির চাচাকে গতকাল সোমবার গ্রেপ্তারের পর তিনি পটুয়াখালী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর শিশুটির বাবাকে মঙ্গলবার, (০৬ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুরে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
গত রোববার সন্ধ্যায় বাড়ির রান্নাঘর থেকে শিশুটির বস্তাবন্দী মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শিশুটির বড় বোন তার বাবা ও চাচার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছি কিনা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে। সুরতহাল প্রতিবেদনে পাওয়া আলামত এবং বিভিন্ন ধারণা মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে।’
আদালতে শিশুটির চাচার দেয়া জবানবন্দির বরাতে ওসি বলেন, শিশুটির মা সৌদি আরব থাকেন। বাড়িতে বাবা ও মেয়ের সঙ্গে দুঃসম্পর্কের আত্মীয় এক কিশোরী থাকে। ‘এর মধ্যে শিশুটির বাবা ওই কিশোরীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যা মেয়েটি বুঝতে পারে। সম্প্রতি তাদের অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পায় শিশুটি। বিষয়টি মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানাতে শিশুটিকে অনুরোধ করে তার বাবা। তাতেও নিশ্চিত না হতে পেরে মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।’
ওসি বলেন, ওই বাড়িতে নিয়মিত খাবার খেতে আসতেন শিশুটির বাবার চাচাতো ভাই। তাকে ‘প্রলোভন দেখিয়ে নিজ মেয়েকে হত্যার জন্য রাজি করান’ বাবা। ‘শুক্রবার (গত) সন্ধ্যায় শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তার চাচা। পরে চাচা আর বাবা মিলে লাশ বস্তাবন্দী করে গুমের চেষ্টা করেন।’ এর মধ্যে মেয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন বলে জানান ওসি সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, লাশ গুম করতে ব্যর্থ হয়ে বস্তাটি রান্নাঘরের এক কোনে রাখা হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।