নৌপরিবহন অধিদপ্তরের হয়রানির প্রতিবাদে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী লঞ্চ ও বোটসহ সবধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন নৌযান মালিকরা। এর ফলে সুন্দরবনে পর্যটকবাহী প্রায় ৪০০ জালিবোটসহ লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গতকাল সোমবার সকাল থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোংলার পিকনিক কর্নারে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকরা জালিবোট ধর্মঘটের কারণে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
যশোর থেকে আসা পর্যটক সাজেদ রহমান বলেন, ‘পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসে মোংলার পিকনিক কর্নারে আটকে গেছি। গাড়ি থেকে নেমে জানতে পারি, সুন্দরবনে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম জালিবোটসহ অন্যান্য নৌযানের ধর্মঘট চলছে। তাই হতাশা নিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যাচ্ছি।’
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন, ‘এখানে এসে দেখি নৌযান চলাচল বন্ধ। তাই আমরা আর সুন্দরবনে যেতে পারছি না। কী করার আছে, এখন ফিরে যেতে হবে।’
খুলনার চুকনগর থেকে আসা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা এক বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি সুন্দরবনে যাওয়ার সব নৌযান চলাচল বন্ধ। আমাদের আসাটাই বৃথা হয়ে গেল।’
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) কর্তৃপক্ষের হয়রানির প্রতিবাদে নৌযান মালিকরা নিজ নিজ উদ্যোগে জালিবোট, ট্রলার ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে ধর্মঘট শুরু করেছেন। এই ধর্মঘটের আওতায় রয়েছে প্রায় ৪০০ লঞ্চ, জালিবোট ও ট্রলার। সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, ‘গতকাল সোমবার ভোর থেকেই এখানে কোনো নৌযান ও পর্যটক আসতে পারছে না। শুনেছি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর গত রোববার পর্যটকবাহী নৌযানগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। এ কারণেই নৌযান মালিকরা নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের খুলনার পরিদর্শক মো. রাশেদুল আলম বলেন, ‘জালিবোটগুলোর উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে, যাতে বোটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। মূলত আমাদের উদ্দেশ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও জানান, গত রোববার নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) মোংলার ফেরিঘাট এলাকায় থাকা অন্তত ৩০টি জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে মালামাল জব্দ করে। এর প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত বোট মালিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।