বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গত এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা শৈত্যপ্রবাহ হাড় কাঁপানো শীতেও মাঠ ছাড়ছে না চাষিরা। কুইক স্টার বীটকপি বাম্পার ফলনে অধিক লাভবানে স্বপ্ন বুনছেন কৃষক আজিজুল। এক একর জমিতে ১ লাখ টাকা ব্যয় করে ৫০০ মণ কপি ফলিয়ে ৫ লাখ টাকা বিক্রি করবেন বলে আশা করছেন এ চাষি। নিজের জমিতে ভালো ফলনে বেজায় খুশির তৃপ্তিতে এ সফল চাষি। এলাকাজুড়ে এখন আলোচিত চাষি আজিজুল হাকীম।
সরজমিন জানা গেছে, উপজেলা বলইবুনিয়া ইউনিয়নের দোনা গ্রামের সফল চাষি আজিজুল হাকীম। ছোট বেলা থেকেই যার কৃষি কাজ স্বপ্ন। ৩০ বছর ধরে কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। হার কাঁপানো প্রচণ্ড শীতের মাঝেও খেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত। চোখে-মুখে তৃপ্তির হাঁসি। কোথাও যেন তার কোনো কষ্ট নেই। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ফসলি খেত, চারদিকে শুধু কুইক স্টার বীটকপির বাম্পার ফলন। সফল চাষি আজিজুল হাকীম জানান, পৈত্রিক নিজ ১ একর তথা ৩ বিঘা ফসলি জমিতে এ বছর কুইক স্টার বীটকপি চাষ করে অধিক লাভবানের মুখ দেখছেন। যে জমিতে এক সময়ে দেশি ধান সর্ব্বোচ ১০০ মণ ফলিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারতেন ব্যয় মিটিয়ে ৯০ থেকে ১ লাখ টাকা। সেই একই জমিতে এ বছরে এ বীটকপি চাষ করে তার শ্রমিক মজুরি, সার, কীটনাশক সবকিছু মিলিয়ে ১ লাখ টাকা ব্যয় করে ফলন পাচ্ছেন ৫ লাখ টাকার। দুই প্রজাতির এ বীটকপি বীজ জিরো-৫ এবং কুইক স্টার। তিনি তার খেতে কুইক স্টার বীজ ৮০ হাজার চারা রোপন করে ৮৫ দিন শেষে প্রায় ৫০০ মণ বীটকপি ফলন পাচ্ছেন। এ প্রজাতের কপির চাহিদাও রয়েছে বেশি বাজার দরও ভালো। খেত থেকেই বেপারীরা পাইকারি ২৫ টাকা কেজি দরে হাজার টাকা মণপ্রতি এ বীটকপি কিনে নিচ্ছেন। তবে বিগত ২/৪ বছরের চাইতে এবারে ফলন খুবই ভালো হওয়ায় অধিক লাভোবানের স্বপ্ন বুনছেন এ চাষি। তিনি বলেন, এভাবে বাজার থাকলে প্রায় ৫ লাখ টাকার বীটকপি বিক্রি নামবে তার। এবারে খেতে ভালো ফলন ফলাতে পেরে একজন সফল চাষি হিসেবে এ আত্মতৃপ্তি অন্যরকম যা বলে বুঝানো যাবে না। গোটা সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন এ খেতের ফসল থেকে সফল চাষি আজিজুল হাকীম। পরিবারে বৃদ্ধ মাতা, স্ত্রী ৪ ছেলে, ২ মেয়ে এদের লেখাপড়াসহ সংসারের সব ব্যয় মিটিয়েও সঞ্চয় করতে পারছেন তিনি। এ ক্ষেত্রে তিনি মনে করেন পরিশ্রমই সফলতার মূল চাবিকাঠি, তার এ ভালো ফলন দেখে আগামী বছরে আরও কৃষক শীতকালীন এ রবি শষ্য সবজি চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বলইবুনিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এস এম আলী আশরাফ বলেন, তার ইউনিয়নে শীতকালীন রবি শষ্য সবজি কুইক স্টার বীটকপি চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন আজিজুল হাকীম। সফল এ চাষি এখন গোটা এলাকার দৃষ্ঠান্ত। কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে শুধু আজিজুল হাকীম নয় এ রকম একাধিক চাষিদের নতুন নতুন ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উৎসাহিতকরণ পরামর্শ, আধুনিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সময়। যে কারণেই আজকের এই চাষির সফলতা বলে তিনি মনে করছেন।