উপকূলীয় জনপদে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় সারা দিনেও সূর্যের দেখা মিলছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তরের হিমেল হাওয়া। ফলে কনকনে ঠন্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলের স্বাভাবিক জনজীবন। বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, পিরোজপুরসহ আশপাশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বরিশাল আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা শীতল বায়ুর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা কমে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ১১.০২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আকাশে মেঘের আধিক্যের কারণে সূর্যের তাপ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে না পারায় শীতের অনুভূতি আরও বেড়েছে। আগামী কয়েকদিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। গত কয়েকদিন যাবত উপকূলীয় অঞ্চলে সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। গত কয়েকদিন সূর্যের আলো দেখা যায় না। কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে কম গতিতে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় যানবাহন চালকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
নদী ও উপকূলীয় জলপথেও শীতের প্রভাব পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় ছোট নৌকা ও ট্রলার চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। জেলেরা জানান, হিমেল হাওয়া ও কুয়াশার কারণে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না তারা। এতে দৈনিক আয় কমে গেছে, দেখা দিয়েছে জীবিকার সংকট। বেতাগী পৌর শহরের বাজার, হাসপাতাল সড়ক, কলেজ রোড ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাতে সাজানো হয়েছে কম্বল, সোয়েটার, মাফলার, কানটুপি ও পুরনো জ্যাকেটের পসরা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কেনাবেচা। দোকানিরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে কম্বল ও ২০০–৫০০ টাকায় সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে। অনেকেই নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য না থাকায় পুরনো শীতবস্ত্রের দিকেই ঝুঁকছেন।
তবে শীতবস্ত্রের দোকানে ভিড় বাড়লেও বেড়েছে খেটে খাওয়া মানুষদের দুর্ভোগ। দিনের কাজ কমে যাওয়ায় আয় কমেছে অনেকের। কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুররা। রিকশা ও ভ্যানচালকরা যাত্রী সংকটে পড়েছেন। কৃষিশ্রমিকদের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ন্যূনতম শীত নিবারণের পোশাক কিনতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
বেতাগী পৌর শহরের রিকশাচালক মোশারেফ হোসেন বলেন, সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যায়। একটা কম্বল কিনতে চাই, কিন্তু আয় কম থাকায় ভাবতে হচ্ছে। একই কথা জানান এক নারী শ্রমিক, শীতে কাজে যেতে কষ্ট হয়। বাচ্চাদের জন্য পুরনো সোয়েটার কিনেছি, নিজের জন্য কিছু নেওয়া সম্ভব হয়নি। বেতাগী পৌর শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান বলেন, শীত যত বাড়ছে, ততই অসহায় মানুষের কষ্ট বাড়ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণ জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বৃদ্ধ, শিশু ও খেটে খাওয়া মানুষদের দিকে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দিনমজুর, রিকশাচালক, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষদের। শীতের সকালে কাজে বের হতে না পারায় অনেক পরিবার আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শীতের তীব্রতায় অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজ বন্ধ রেখে ঘরে অবস্থান করছেন। শীতজনিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র মানুষগুলো পুরোনো ও পাতলা কাপড় গায়ে জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজার ও ফুটপাতের শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। তবে নিম্ন আয়ের মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী শীতবস্ত্র কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। তারা দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে। উপকূলজুড়ে সূর্যহীন দিন, কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়্যাদ আমারুল ইসলাম বলেন,’ প্রচন্ড ঠন্ডার কারণে ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি, বুকের ইনফ্লুয়েঞ্জা, জ্বর হতে পারে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের গরম খাবার খেতে হবে এবং সবসময় শুকনো কাপড় পরতে হবে। আক্রান্ত হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ইউআইটিএসে শুরু হচ্ছে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ভ্রমণের পেমেন্ট বিকাশ করে গ্রাহকরা জিতে নিলো নেপাল ও কক্সবাজার ট্যুর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’