image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সিট নিয়ে বিরোধের জেরে বাসচালককে মারধরের অভিযোগ

প্রতিনিধি, সাপাহার (নওগাঁ)

নওগাঁর সাপাহারে যাত্রীবাহী বাসে সিট নিয়ে বিরোধের জেরে বাসচালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণ, তার স্বামী জয়ন্ত বর্মণ ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। তবে জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজশিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ ওই দিন সকালে সিটবিহীন (স্ট্যান্ডিং) টিকেট কেটে বাসে ওঠেন। সিট ফাঁকা থাকায় তিনি একটি সিটে বসেন। বাসটি দিঘার মোড় এলাকায় পৌঁছালে ওই সিটের নির্ধারিত যাত্রী এলে বাসের সুপারভাইজার তাকে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। এ সময় জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে সাপাহার সার্কেলের এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে একই দিন তিনি বাসচালক বাদলের সঙ্গেও বাকবিত-ায় জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধানসুরা স্টপেজে নামার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেয়ার হুমকি দেন জয়ন্ত বর্মণ। বাসচালক বাদলের অভিযোগ অনুযায়ী, জয়ন্ত বর্মণ বাস থেকে নামার পর ওই দিনই এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ সাপাহারের টিকেট মাস্টারকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। পরে টিকেট মাস্টারের ব্যবহৃত মুঠোফোন থেকে বাসচালক বাদলকে কল করে তাকে অফিসে আসতে বলা হয়।

একই দিন আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে বাসটি রাজশাহী থেকে পুনরায় সাপাহারে ফিরে এলে চালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে এএসপির কার্যালয়ে ডেকে নেয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ চালকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং তাকে মারধর করেন। চালক বাদলের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে জয়ন্ত বর্মণ ও কনস্টেবল আনন্দ বর্মণও মারধরে অংশ নেন। কনস্টেবল আনন্দ বর্মণ এসএস পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে একপর্যায়ে বাদল জ্ঞান হারান বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে এই শর্তে ছেড়ে দেয়া হয় যে তিনি সাপাহারের কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন না।

পরদিন সোমবার তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘটনাটি ‘পুলিশ কেস’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগটি প্রোপাগান্ডা এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শ্রমিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’