image
গাইবান্ধার আনালেরতাইর গ্রামে পানি ছিটিয়ে বীজতলা পরিচর্যা করছেন এক কৃষক -সংবাদ

সূর্যের আলোর অভাবে ইরি-বারো বীজতলা

প্রতিনিধি, গাইবান্ধা

গাইবান্ধায় জেঁকে বসা হাড় কাঁপানো শীত, ঘন কুয়াশা আর সূর্যের আলোর সংকটে পড়েছে ইরি-বোরো বীজতলা। প্রচন্ড ঠান্ডায় চারা গাছ বড় হতে পারছে না, উল্টো পাতা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। বিঘ্নিত হচ্ছে চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি, যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি ২০২৫-২৬ বোরো মৌসুমে গাইবান্ধায় ১ লাখ ২৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পর্যাপ্ত চারার প্রয়োজনে জেলায় মোট ৬ হাজার ৮১২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই বিপুল পরিমাণ বীজতলা এখন ঝুঁকির মুখে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুয়াশার চাদরে ঢাকা মাঠ আর কনকনে ঠান্ডায় অনেক বীজতলায় পচন ধরতে শুরু করেছে। সাঘাটা উপজেলার কৃষক নায়েব আলী জানান, তিনি ২০ শতক জমিতে বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু সূর্যের দেখা না মেলায় চারাগুলো বাড়ছে না বরং মরে যাচ্ছে। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সদর উপজেলার আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বীজতলায় নানা ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করেও চারা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।’

তীব্র শীত ও কুয়াশার হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল ইসলাম জানান, চারা টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি পরামর্শ দেন, রাতে বীজতলা স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, বীজতলায় সব সময় ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখা এবং প্রতিদিন সকালে চারার ওপর জমে থাকা শিশির লাঠি দিয়ে ঝরিয়ে দেয়া। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সঠিকভাবে যত্ন নিলে এবং আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসলে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। তবে শীতের প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হলে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ কৃষকরা।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’