image
বরুড়া (কুমিল্লা) : বিক্রির জন্য মোকামে আনা ধান -সংবাদ

বরুড়ায় আমনের ভালো ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে

প্রতিনিধি, বরুড়া (কুমিল্লা)

কুমিল্লার শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বরুড়ায় এ বছর আবহাওয়া অনেকাংশে অনুকূলে থাকায় আর সার, কীটনাশকের সহজ প্রাপ্তিতে আমন ধানের আবাদ করে অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। তবে কৃষকের অভিযোগ কষ্টার্জিত শ্রমে উৎপাদিত এ আমন ধান ফসল বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

এদিকে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এ বছর এ উপজেলায় হাইব্রিড এবং উচ্চ ফলনশীল এ দুই জাত মিলে ১৩ হাজার ৭ শত ৯৪ হেক্টর জমিতে কৃষকরা আমন ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৬ শত ৭৮ হেক্টর জমিতে এবং হাইব্রিড এর আবাদ হয়েছে ৪ শত ৫০ হেক্টর জমিতে। আর এতে হেক্টর প্রতি গড় ফলন হয়েছে চাউল আকারে প্রায় ৩ মেট্রিক টন ধান। আর মোট ফলন হয়েছে চাল আকারে প্রায় ৪২ হাজার মেট্রিক টন ধান। আর এ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন অধিকাংশই প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। অপরদিকে চলতি মৌসুমে সরকারি উদ্যোগে খাদ্য বিভাগ কৃষকদের কাছ থেকে ধান এবং মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল ক্রয় অভিযান গত ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর শুরু হয়েছে।

এ কার্যক্রম চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালু থাকার কথা। এরই মধ্যে খাদ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কেজি প্রতি ৩৪ টাকা দরে ১১৭ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে এবং মিল মালিকদের কাছ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে ২৫৮ মেট্রিন টন সিদ্ধ চাল এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে ৪ শত মেট্রিক টন আতপ চাল ক্রয় সম্পন্ন হয়েছে বলে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বরুড়া সদর বাজার, সুলতানপুর বাজার, রামমোহন বাজার, আমড়াতলী বাজার, আড্ডা বাজার, ঝলম বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে কৃষকেরা আমন ধান আবাদে ঋণ পরিশোধ এবং বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যে তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির ধান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছেন।

এ সময় আলাপকালে ভাউকসার ইউনিয়নের চোত্তা পুকুরিয়া গ্রামের আবদুল মান্নান, শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব শিলমুড়ি গ্রামের স্বপন মিয়া, ভাউকসার ইউনিয়নের দলুয়া তুলাগাঁওয়ের কৃষক ছাদু মিয়া, শাকপুর ইউনিয়নের রাজপুর গ্রামের কৃষক বিমল সরকার, গালিমপুর ইউনিয়নের তারাবাড়িয়া গ্রামের কৃষক নিরোধ চন্দ্র ভৌমিক, চিতড্ডা ইউনিয়নের মুকুন্দপুর গ্রামের মো. খলিলুর রহমান, ঝলম ইউনিয়নের সাইলচোঁ গ্রামের মহিফুল মিয়া, পৌর শহরের দেওড়া গ্রামের কৃষক রমিজ মিয়াসহ অনেকে জানান, এ বছর আমন মৌসুমে উফশী জাতের ব্রি ধান ৯৩, ব্রি ধান ৪৮, ব্রি ধান ১০৩, ব্রি ধান ৪৬, ব্রি ধান ৭৫, ব্রি ধান ৯৪, হাইব্রিড জাতসহ বিভিন্ন জাতের ধানের আবাদ করেছেন তারা। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আমনের আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তবে বদলার দাম, সার, ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে এ বছর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে।

বাজারে তারা আকারভেদে মোটা ধান মণপ্রতি ১০৬০ টাকা দরে এবং চিকন ধান ১২৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। ধান আবাদে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় তারা লাভের আশা দেখছেন না। এখন তারা বোরো ধান আবাদ প্রস্তুতি করতে গিয়ে, আবার কেউ কেউ আলু ফসলসহ অন্যান্য ফসল আবাদের নিমিত্তে টাকার প্রয়োজনে তারা তাদের গোলার সব ধান বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় তারা ধান বিক্রিতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তাদের অভিযোগ ধানের বাজার সরকারিভাবে মনিটনিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন একশ্রেণির ফাঁড়িয়ারা কিংবা মধ্যস্বত্তভোগীরা।

এছাড়া তারা আরও জানান, প্রতি মণ ধান পনেরোশ টাকা থেকে ষোলশ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে তারা লাভবান হতে পারতেন। অন্য কৃষকরাও একই অভিমত প্রকাশ করেন। জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এ বছর প্রাকৃতিক পরিবেশ অনেকাংশে অনুকূলে থাকায় আর কৃষি অফিস কর্তৃক কৃষকদের যথা সময়ে সুষম সার, কীটনাশক প্রয়োগ পদ্ধতি পরামর্শ প্রদানে অন্যান্য বছরের তুলনায় এখানের কৃষকরা আমন ধান আবাদ করে ভাল ফলন পেয়েছেন। এছাড়া বাজারে ভালো দাম পেলে কৃষকরা ধান বিক্রিতে লাভবান হতে পারতেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’