image
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

উদাসীন প্রশাসন: পীরের পেটে বনের পাহাড়!

প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

‘পীরের পেটে বনের পাহাড়’ কথাটি শুনলে রূপকথা মনে হলেও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে এটিই এখন বাস্তব। ধর্মীয় লেবাসের আড়ালে সরকারি বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড় কেটে সাবাড় করেছেন পাইন্দং আশরাফাবাদ দরবার শরীফের পীর শাহ আলম নঈমী।

পরিবেশ ও বন আইন লঙ্ঘন করে প্রকাশ্য দিবালোকে খননযন্ত্রের সাহায্যে বিশালাকার পাহাড় কেটে সাবাড় করা হয়েছে। একই কায়দায় সড়ক নির্মাণের নামে কর্তন করা হয়েছে পাশের আরও দুটি পাহাড়। পাহাড়গুলো চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের নারায়ানহাট রেঞ্জের ধুরুং বনবিটের সংরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্মীয় অনুসারীদের ঢাল বানিয়ে রাউজান থেকে এসে হাফেজ মুহাম্মদ শাহ আলম নঈমী দীর্ঘদিন ধরে পাইন্দং এলাকায় একটি দরবারে অবস্থান করেন। এরপর ধাপে ধাপে শুরু হয় বন বিভাগের জমি দখল।

বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬ উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ধুল্যাছড়ি এলাকায় গিয়ে এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের আলোতেই দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড় কাটার কাজ চললেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কর্তনকৃত পাহাড়টি দেখভাল করার দায়িত্বে থাকা মাস্টার হারুন জানান, জায়গাটি মুলত রিজার্ভ ফরেস্টের। আমরা গত বছর জায়গাটি দখলে নিয়েছি। এখানে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হবে। পাহাড়টি কেটে উপযোগী করতে প্রায় ১০ লাখ টাকা এস্কাভেটর খরচ লেগেছে। পাহাড় কাটার বিষয়টি সবাই জানে কেউ বাধা দেয়নি। হুজুরের দরবারে অনেক বড় বড় সাংবাদিক, নেতা ও প্রশাসনের লোকজন আসেন। আমাদের কিছুই হবে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাফেজ মুহাম্মদ শাহ আলম নঈমী একজন ধর্মীয় পীর। তার প্রতিষ্ঠিত আনজুমানে নঈমীয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় স্কুল স্থাপনের নামে পাহাড় কেটে সাবাড় করেছেন। কাটা পাহাড়ের প্রায় এক কিলোমিটার পশ্চিমে তার প্রতিষ্ঠিত জালালীয়া রজবীয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা রয়েছে, যার নির্মাণকালেও পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল রাবার বাগান এলাকায় আশরাফাবাদ দরবার শরীফের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের ক্ষেত্রেও একইভাবে পাহাড় কাটার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়ও তিনি একই কায়দায় দখলকৃত জায়গায় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বারবার একই অপরাধ সংগঠিত করলেও পীরের অদৃশ্য কেরামতিতে প্রশাসনের কোনো হস্তক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। প্রশ্ন উঠছে, পীরের অলৌকিক ভীতি নাকি পর্দার অন্তরালে ম্যানেজ থাকে প্রশাসন!

বিষয়টি জেনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান কাঞ্চননগর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নজরুল ইসলাম।

আশরাফাবাদ দরবার শরীফের পীর মুহাম্মদ শাহ আলম নঈমী পাহাড় কেটে স্কুল স্থাপনের কথা স্বীকার করে বলেন, আমি এখানে বিধর্মীদের জন্য একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করছি। নারায়নহাট রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক খান মো. আবরারুর রহমান বলেন, জায়গাটি পরিদর্শনে গিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহ বলেন, টিলা-পাহাড় কর্তন জলবায়ু পরির্বতনের জন্য মারাত্মক হুমকি।

ফটিকছড়ির পাহাড়টি ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, কর্তনকৃত স্থান পরির্দশন করে আইন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি

Sangbad Image

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’