দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত থাকার পরও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালী জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বেগমগঞ্জের চৌমুহনীসহ জেলার বিভিন্নস্থানে এলপি গ্যাসের এই সংকট ডিলারদের জীবিকা অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সঙ্গে বর্তমানে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় সাধারণ ক্রেতারা।
সরবরাহ সংকটের সুযোগে সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার ১৩০৬ টাকা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগে বেগমগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। কোথাও জেল-জরিমানাও করা হচ্ছে। তাতেও বাজার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হচ্ছে না বলে ভোক্তাদের অভিযোগ। এদিকে, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি ঠেকাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে প্রশাসন। এ সময় দুই ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা অর্থদ- দেয়া হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেগমগঞ্জ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদাত হোসেন। অভিযানের সময় পুলিশের একটি চৌকস টিম মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরবাগ বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর বাজার সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখার উদ্দ্যেশে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদাত হোসেন। এ সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়ের ভাউচারসহ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ঘটনাস্থলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৮ ও ৪০ ধারায় মো লোকমান হোসেনকে ২৫ হাজার টাকা এবং আব্দুল হককে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২টি মামলায় ৩৫ হাজার টাকা অর্থদ- দেয়া হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানার এস আই কবির হোসেনসহ পুলিশের একটি চৌকস টিম মোবাইল কোর্টে সহযোগিতা করেন।
উল্লেখ্য, দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের মজুত পর্যাপ্ত থাকার পরও বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন ডিলার ও ব্যবসায়ীরা। নোয়াখালীতে এলপি গ্যাসের বর্তমান এই সংকট ডিলারদের জীবিকা অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সঙ্গে বাড়তি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় সাধারণ ক্রেতারা। বুধবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক এলপি গ্যাস বিক্রির ডিপো বন্ধ হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় অনেক পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী দোকানপাট বন্ধ করে বাসায় বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না, অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান এই দ্বিমুখী চাপে পড়েছেন বিক্রেতারা। ফলে গ্যাস না থাকলেও আতঙ্কে দোকান খুলতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। সরবরাহ সংকট ও অভিযানের মধ্যে পড়ে চরম দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন এলপি গ্যাস বিক্রেতারা। জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেগমগঞ্জ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদাত হোসেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ইউআইটিএসে শুরু হচ্ছে হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: ভ্রমণের পেমেন্ট বিকাশ করে গ্রাহকরা জিতে নিলো নেপাল ও কক্সবাজার ট্যুর
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিকাশের নতুন উদ্যোগ ‘বি হাইভ’