জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় মেঘালয় সীমান্তবর্তী দুর্গম গ্রাম মাখনেরচর, নিমাইমারী পূর্বপাড়া, বাঘারচর, কদমতলা, ডাংধরা গ্রামগুলোর মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে জিঞ্জিরাম নদী।
গতকাল সোমবার এলাকা ঘুরে জানা যায়, এই নদীতে সেতু না থাকায় ভোগান্তিতে আছেন বিজিবিসহ প্রায় ১২ হাজার মানুষ। মাখনেরচর এলাকায় ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা রয়েছে। শিশুরা এ এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলেও এলাকায় নেই কোনো মাধ্যমিক স্কুল বা কলেজ। ফলে নদী পার হয়ে কাউনিয়ার চর, সানন্দ বাড়ি অথবা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় গিয়ে পড়তে হয়।
এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সময় মতো বাজারে আনা-নেয়া করা যায় না। বর্ষাকালে, এমনকি শীতকাল শুকনা মৌসুমেও বাশের সাঁকো ছাড়া যোগাযোগ একেবারে বন্ধ। অন্যদিকে মাঝেমাঝে ভারতীয় বিএসএফ ও হাতির কাছ থেকে রক্ষা পেতে বিজিবির সদস্যদের আসতেও কষ্ট হয়ে যায়। অন্য দিকে শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ এলাকাবাসীকে সমস্যায় পড়তে হয়।
মাখনেরচর এলাকার মজিবর রহমান ও রফিকুল ইসলাম জানান, ব্রিটিশ, পাকিস্তান শাসন আমল চলে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের শাসন আমলের ৫৫ বছর চলছে। প্রতি নির্বাচনের সময় এমপি, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা নদীর উপর ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণে, এলাকার অসহায় অবুঝ মানুষকে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি দিয়ে ভোট নিয়ে যায়। ভোট নেয়া শেষ হলে আমাদের ভোগান্তির কথা আর মনে থাকে না। একটি সেতুর অভাবে এলাকার মানুষের ভোগান্তি চরমে। ভোগান্তি থেকে রক্ষায় সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নদীর উপর ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেয়ার।
নিমাইমারী পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাত আলী, হাফেজ আলী ও ইয়াকুব আলী বলেন, কোন লোক অসুস্থ হলে তাকে রাজিবপুর, দেওয়ানগঞ্জ ও বকশিগঞ্জ উপজেলায় নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী নারীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। বর্ষাকালে নৌকায় পারাপার হতে হয়। পানি বাড়লে তীব্র রাতে নৌকা চলে না। বেশ কয়েকবার নৌকাডুবির ঘটনাও ঘটেছে।
বাঘারচর গ্রামের হাফিজুর রহমান বলেন, নদীর ওপারে প্রায় ৬ হাজার লোকের বসবাস। কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদিত পণ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাজারজাত করা যায় না। বর্ষাকালে খাবার জোগাড় করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমাদের অনেক জমি নদীর ওপারে। ফসল ফলালে বাড়িতে আনা খুব কষ্টকর ও খরচ বেশি হয়ে যায়। প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের প্রার্থনা, এলাকাবাসীর সুবিধার্থে জিঞ্জিরাম নদীর উপর একটি ব্রিজ চাই।
মাখনেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজ করতে রড, সিমেন্ট, বালুসহ অন্যান্য মালামাল নিতে খরচ বেশি পড়ছে এবং আমাদেরও সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে আসা কষ্টকর হয়ে যায়। এলাকার উন্নয়নে জিঞ্জিরাম নদীর উপর একটি সেতু জরুরি প্রয়োজন।