তিস্তা মহাপরিকল্পনার অফিশিয়াল সাইনিং ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জানুয়ারি মাসের মধ্যে নিশ্চিত করার দাবিতে নীলফামারীর সৈয়দপুরে স্ট্রাইক কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রুপান্তর সৈয়দপুর কমিটির উদ্যোগে শহীদ স্মৃতিসৌধের সামনে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। এটি ছিল ‘তিস্তার আর্তনাদ’ নামে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি। এতে রুপান্তরের স্থানীয় সদস্যরা ‘তিস্তা বাঁচলে কৃষক বাঁচবে, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে’ স্লোগানের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
কর্মসূচিতে বক্তব্য বলেন রুপান্তরের সৈয়দপুর কমিটির ট্রেজারার মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের জীবন ও জীবিকার ভরসা। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কৃষক বাঁচবে, সেচ নিশ্চিত হবে এবং মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য এই পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মসূচির আয়োজকরা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। কিন্তু জানুয়ারি শুরু হলেও এখন পর্যন্ত অফিশিয়াল সাইনিং, বাস্তব কার্যক্রম শুরুর দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র প্রকাশ করা হয়নি। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও অনিশ্চয়তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সষ্টি করছে।
তারা আরও বলেন, তিস্তা কেবল নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ, ভাঙন, বন্যা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। তিস্তা অববাহিকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে পানি সংকট, নদীভাঙন ও জীবিকার ক্ষতির শিকার। অথচ বারবার তিস্তা ইস্যুকে জাতীয় অগ্রাধিকারের তালিকা থেকে পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। তারা বলেন, রুপান্তর এবং আমাদের সঙ্গে আরও কিছু সংগঠন ‘তিস্তার আর্তনাদ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা-সংক্রান্ত কোন সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবিপত্র প্রেরণ করা হবে।
তারা আরও বলেন, তিস্তা প্রশ্নে জনআস্থার সংকট তৈরি হলে তা ভবিষ্যৎ বৃহত্তর সামাজিক প্রতিক্রিয়ায় রুপ নিতে পারে। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির দাবি জানান তারা।