জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় টানা দুই দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় গত ৫ জানুয়ারি রাত থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার, (০৭ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক।
এর আগে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। গ্যাস সংকটে ১৩ মাস ২৩ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস। পরদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি চুল্লিতে গ্যাস সংযোগ (ফায়ারিং) দেয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানা চালু করা হয়।
এরপর ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে সার উৎপাদন শুরু হলেও মাত্র চার দিনের মাথায় অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় পুনরায় উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে যমুনা সার কারখানা দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে।
দীর্ঘ ২৩ মাস পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস। গ্যাসের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনের প্রস্তুতি নেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে দুই সপ্তাহ পর পুরোদমে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও সব প্রস্তুতি শেষে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উৎপাদন শুরু করা হয়।
কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২-৪৫ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হলেও সরবরাহকৃত গ্যাসের চাপ ছিল মাত্র ৯-১০ পিএসআই। ফলে উৎপাদন নেমে আসে প্রায় ৪৫ শতাংশে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯০ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনক্ষম দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যমুনা সার কারখানা স্থাপন করা হয়। ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজারের উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে ২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে যমুনা কারখানায় গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। এতে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্রমিকরা কর্মহীন হয়ে পড়েন।
এদিকে, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর পুনরায় ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হলেও অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় গত ৫ জানুয়ারি রাত থেকে আবারও উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যমুনা সার কারখানা থেকে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলার প্রায় আড়াই হাজার সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে কারখানার কমান্ডিং এলাকায় সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।
এ বিষয়ে কারখানার উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) ফজলুল হক বলেন, ‘অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় ৫ জানুয়ারি রাত থেকে যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। মেরামতের কাজ শেষ করে দ্রুতই উৎপাদনে ফেরার চেষ্টা চলছে।’