নিপা একটি জুনোটিক রোগ। এই রোগের বাহক বাদুড়। এই বাদুড় থেকে এই রোগ মানুষে ছড়ায়। বাদুড়ের মুখের লালা-বা মলমূত্র খেজুরের রস বা তালের রসে এবং আধা খাওয়া ফল ইত্যাদির মাধ্যমে নিপা ভাইরাস ছড়াতে পারে।
এ রোগের প্রধান লক্ষণ সমূহ হলো- জ্বরসহ মাথাব্যাথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া, মানসিক অবস্থান পরিবর্তন (আবোল-তাবল বলা বা ভূলবলা) । কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট হয়।
মানুষের মধ্যে এই সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর হার শতকরা প্রায় ৭২ ভাগের বেশি।
বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসের বিস্তার এবং ঝুঁকি নিরুপণের জন্য মহাখালী রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) আইসিডিডিআর,বি ২০০৬ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের ১৬টি সরকারি হাসপাতালে সার্ভিলেন্স কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
বাংলাদেশে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৩৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে ২৪৯ জন রোগী মারা গেছেন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সকল রোগী মারা গেছেন। বাংলাদেশে শীত মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুভাব দেখায়। সাধারণত খেজুরের কাঁচারস পানের মাধ্যমে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। তবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত গ্রীষ্মকালে একজন নিপা রোগী শনাক্ত হয়েছে। আইইডিসিআর এবং আইডিসডিডিআর,বি’তে নিপা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য আধুনিক ল্যাবরেটরির সুবিধা রয়েছে।
এ দিকে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে বুধবার, (০৭ জানুয়ারী ২০২৬) মহাখালী রোগতত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন, ভাইরোলজি বিভাগের ডা. শারমিন সুলতানা। এতে সভাপতিত্ব করেন ডা. তাহমিনা শিরিন। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ স্বাস্থ্য সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
বিষেষজ্ঞরা বলেছেন, শীতের সময় খেজুরের কাঁচা রসের মাধ্যমে মানবদেহে নিপা ভাইারাস সংক্রমিত হতে পারে। নিপা আক্রান্ত রোগীর মৃতুল হার শতকরা ৭২ ভাগ। এর মধ্যে যারা বেঁচে থাকেন তাদের তাদের শরীরর তারা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জীবনযাপন করতে হয়।
নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো সর্বোপরি খেজুরের কাঁচা রস না খাওয়ার জন্য জণগণকে উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়েছে। জরুরি তথ্যের জন্য আইসিডিআর ০১৯০৭৮০১৮৫৬ ও ০১৩০৪০৬৮৮০০ (আইসিডিডিআর,বি) যোগাযোগের জন্য আহবান জানানো হয়েছে।’
নিপা ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার সাংবাদিকদের জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সভায় আরও জানানো হয়, নিপা মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।