গজারিয়ার বওবিন্ন এলাকায় হাড় কাঁপানো শীতের তীব্রতার মধ্যেও চাষিরা বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
চাষিরা বলছেন, উপযুক্ত সময়ে ধানের চারা রোপণ না করতে পারলে আশানুরূপ ফলন ব্যাহত হতে পারে। তাই কনকনে শীত উপেক্ষা করেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌষের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন চারা তোলা এবং বোরো রোপণের কাজে। ধানের দাম ভালো পাওয়ার আশায় কৃষকরা জমিতে আগে ভাগেই বোরো ধান রোপণ শুরু করেছেন।
বর্তমানে গজারিয়া উপজেলার অপেক্ষাকৃত নিচু ও বিল এলাকার জমিতে স্থানীয় জাতের বোরো ধান ও আগাম জাতের হাইব্রিড ধান রোপণ শুরু করা হয়েছে।
গজারিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো আবাদ মৌসুমে উজেলায় ২ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এর জন্য ১৬০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করেছেন কৃষকরা। তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে কিছু কিছু এলাকায় বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকরা বাড়তি দামে চারা কিনতে বাধ্য হচ্ছে, এতে বোরা আবাদে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছ কয়েক জন কৃষক ও বোরো চাষি। মধ্য বাউশিয়া গ্রামের কৃষক সমশের আলী জানান, শীত জনিত কারণে বীজতলা আক্রান্ত হয়েছে, তীব্র শীতে জমিতে থাকা যায় না। তীব্র শীত ও ঠা-া আবহাওয়ার কারণে কৃষি শ্রমিকেরা বাড়তি মজুরি দাবি করছে, সময় ও চাহিদামতো শ্রমিক পাওয়া দুষ্কর হয়ে পরেছে। ভবেরচর লক্ষ্মীপুরা এলাকার কৃষক মহব্বত আলি জানান, অপেক্ষাকৃত নিচু জমি যেখানে পানি থাকায় সরিষার আবাদ করা যায়নি সে জমিতে আগাম বোরা ধান রোপণ করা হচ্ছে।
তবে এতো শীতে কাঁদা পানিতে টেকা যায় না। শীতের কারণে শ্রমিক পেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি মজুরি অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক পাওয়া কষ্টকর।
বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কৃষক বাড়তি টাকায় শ্রমিক না নিয়ে নিজেকেই শীত উপেক্ষা করে বোরা চারা রোপণ করতে দেখা গেছে। গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক জানান, উপজেলায় এবছর বোরো চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। আর এজন্য বীজতলা তৈরি হয়েছে ১৬০ হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যেই অপেক্ষাকৃত নিচু জমিতে চারা রোপণ শুরু করেছে কৃষকরা।
সারাদেশ: ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম