ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় পান্তাপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন লাইনের নির্মাণ ও মেরামত কাজের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বোরো মৌসুমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় জমি প্রস্তুত, পানি সরবরাহ ও ধান রোপণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো হালচাষ ও সেচ দিতে না পারায় বোরো আবাদ পিছিয়ে যাচ্ছে এবং এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা অভিজিৎ শাহ জানান, আরএপি টেন্ডারের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়ন করছে এবং পুরোপুরি বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও মহেশপুরের মাঠজুড়ে বোরো ধান রোপণের ব্যস্ততা থেমে নেই। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪.৪২ টন ফলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদবপুর, নেপা ও কাজিরবেড় ইউনিয়নের কৃষকরা শ্রমিক সংকট, সারের দাম ও বিদ্যুৎ সমস্যার কথা তুলে ধরলেও বাপ-দাদার পেশা টিকিয়ে রাখতে চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা জানান, কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে, উন্নত জাতের বীজ ও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হলে সব বাধা কাটিয়ে এ বছর মহেশপুরে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারাদেশ: ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম