নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন এলাকায় ধানের জালধান (বীজতলা) নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাতের তীব্র ঠান্ডা ও শিশিরের প্রভাবে ধানের চারা দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক জায়গায় চারার পাতা পচে যাওয়া ও বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বোরো মৌসুমে ধান রোপণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় বুধি গ্রামের আব্দুল আলী, আব্দুল আওয়াল কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে টানা শীতের কারণে বীজতলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও চারার রং হলদে বা সাদা হয়ে যাচ্ছে এবং কিছু চারা মারা যাচ্ছে।
পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও গ্রামের কৃষক মনজুরুল হক বলেন, হঠাৎ করে এত শীত পড়ায় জালধান ঠিকভাবে বাড়ছে না। চারার পাতা পচে যাচ্ছে। শীত যদি আরও বাড়ে, তাহলে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে হবে, এতে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। একই উপজেলার আরেক কৃষক মো. ফজলুর রহমান, ঘাগড়া গ্রামের কৃষক জানান, রাতে কুয়াশা ও শিশিরে জালধান ভিজে থাকে। খড় ও পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা করছি, কিন্তু সব জমিতে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জোবায়ের হোসেন বলেন, প্রচন্ড শীতে ধানের জালধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কৃষকদের রাতে পলিথিন বা খড় দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখা, অতিরিক্ত পানি জমে থাকতে না দেয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকরা সময়মতো পরামর্শ মেনে চললে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। আমি নিজেও নিয়মিত মাঠে যাচ্ছি এবং পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তবে রৌদ্র উঠে গেলে আর কোনো ক্ষতি হবে না আশা করছি।
অনেক কৃষক মনে করছে আগামী কয়েকদিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকলে চারা ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। ফলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জালধান নষ্ট হয়ে কৃষকের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকরা জালধান রক্ষায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
সারাদেশ: ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম