ঘন কুয়াশা ও বৈরী আবহাওয়ার কারনে বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশন দিয়ে চলাচলকারী বেশির ভাগ যাত্রীবাহী ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। প্রতিটি ট্রেন প্রায় দুই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে। এতে যাত্রীদের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কনকনে শীত উপেক্ষা করে তাদের স্টেশনের প্ল্যাটফরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। টানা শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলে সন্ধ্যার পর থেকে সকাল প্রায় দিনভর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো থাকে। ঘন কুয়াশায় দৃষ্টিসীমা ৩০ গজের মধ্যে থেমে যাচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রেনের গতি কমানো হয়েছে। ফলে ট্রেন গন্তব্য পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
সান্তাহার জংসন স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার জংসন স্টেশনের ওপর দিয়ে ২৪ ঘন্টায় ৪৮ ট্রেন যাতায়াত করে। এরইমধ্যে নীলসাগর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, রূপসা এক্সপ্রেস,সহ বেশির ভাগ ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। স্টেশনে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। গতকাল বুধবার ট্রেনে বিলম্বের কখা জানিয়েছে স্টেশন কার্যালয়। ঘন কুয়াশার কারণে এসব ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। কুয়াশা ভেদ করে ট্রেনগুলো যেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারে, সেজন্য উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
সান্তাহার জংসন স্টেশনের বুকিং সহকারী সোহেল রানা জানান, উত্তরাঞ্চলে চলাচলকারী বেশির ভাগ ট্রেন বিলম্বে চলাচল করছে। একতা এক্সপ্রেস, লালনমনিহাট এক্সপ্রেস, নীলসাগর এক্সপ্রেসসহ ঢাকাগামী ও অন্যান্য ট্রেনগুলোকে বিলম্বে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। জংশন স্টেশনে কথা হয় ট্রেন চালক জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ট্রেনের গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে রেল কর্তৃপক্ষ প্রতি শীতেই ট্রেনের গতি কমানোর নির্দেশনা রয়েছে। কুয়াশা ভেদ করে দ্রুত গতিতে ট্রেন চালানোর প্রযুক্তি কোথাও আছে বলে আমাদের জানা নেই।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের মাস্টার খাদিজা খানম জানান, কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করলেও বেশির ভাগ ট্রেন চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। প্রতি বছর ঘন কুয়াশার চালকরা হেডলাইট জ্বালিয়ে গতি কমিয়ে ট্রেন চালায়। কুয়াশা কমে গেলে ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারবে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ জানান, ঘন কুয়াশার কারণে বেশি দূরত্বে চলাচলকারী ট্রেনগুলো কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। ট্রেনে বিলম্বে চলাচল অনেকটা কমে এসেছে। কুয়াশা কমে গেলে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে।
সারাদেশ: ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম