হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জায়গা-জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর আজমল হোসাইন হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব-৯ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে কুমিল্লা থেকে মামলার এজাহারনামীয় দ্বিতীয় আসামি সেবু মিয়াকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার সেবু মিয়া (২৫) নবীগঞ্জ উপজেলার নিশাকুড়ি গ্রামের মৃত হানিফ উল্ল্যাহর পুত্র বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।
র্যাব সূত্র জানায়, নিহত আজমল হোসাইন দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানকালে তার ক্রয়কৃত ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিজমি তার অগোচরে বন্ধক রেখে ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে অর্থ বণ্টন করেন। দেশে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে আজমল হোসাইন বন্ধকী টাকা পরিশোধ করে জমিগুলো উদ্ধার করেন এবং নিজ উদ্যোগে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে বিবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
এরই জেরে গত বছরের ২৫ জুন আজমল হোসাইনকে তার দুই ভাই ও ভাতিজা মারধর করেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা দায়ের করলে বিবাদীরা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে গত বছরের ৭ নভেম্বর জুমার নামাজ শেষে দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেটের সামনে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা পরস্পর যোগসাজশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আজমল হোসাইনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
র্যাবব জানায়, ঘটনার পরপরই র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এরই অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৫ জানুয়ারি (সোমবার) রাত সাড়ে ৯টার দিকে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প ও র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালি থানাধীন চৌয়ারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সেবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
সারাদেশ: ফিশিং বোটে নিষিদ্ধ ট্রলিং সরঞ্জাম