image

দিনভর ভোগান্তি: সরকারের আশ্বাসে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপি গ্যাস) ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের তিন দাবি

চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা

বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি করা

নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা

ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তারা। ঢাকাসহ দেশজুড়ে দিনভর ভোগান্তির পর বৃহস্পতিবার,( ০৮ জানুয়ারী ২০২৬) বিকেলে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান ধর্মঘট তুলে নেয়ার ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অংশ নেয়ার পর সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

বৈঠকে নেতারা তিনটি দাবি উত্থাপন করেন- সারা দেশে চলমান প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ করা, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বৃদ্ধি করা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।

বৈঠকে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আশ্বস্ত করেছেন যে, চলমান অভিযানের বিষয়ে তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবেন এবং চার্জ বাড়াতে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন।

জালাল আহমেদ আরও বলেন, এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন জানিয়েছে যে, জাহাজ সংকটের মধ্যেও পণ্য আমদানির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহের সংকট কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।

তবে সেলিম খান বলেন, অপারেটরদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতেই তাদের ১ হাজার ৩০০ টাকার বেশি দিতে হচ্ছে। তাই ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার দেড় হাজার টাকার কম দামে বিক্রি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

এদিকে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার বেশি দামে পণ্য বিক্রির কোনো যুক্তি তিনি দেখছেন না।

দেশজুড়ে অভিযান ও জরিমানার প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার রাতে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। বৃহস্পতিবার থেকে তারা এ কর্মসূচি পালনের অংশ হিসেবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব কোম্পানির প্লান্ট থেকে এলপিজি উত্তোলনও বন্ধ রাখার কথা বলেছিল।

সমিতির তরফে রাতের ঘোষণার পর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা বিক্রেতারা পুরোদমে বিক্রি বন্ধ করে দেন। আগে থেকে চলতে থাকা সংকটের কারণে এমনিতেই এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল কম। কোথাও পাওয়া গেলেও দিতে হচ্ছিল অনেক বেশি দাম।

এর মধ্যে সকাল থেকে একেবারে বিক্রি বন্ধ হয়ে গেলে যাদের গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছিল তারা পড়েন বিপাকে। ডিলার পয়েন্টগুলো খোলেনি। রাজধানীর অনেক বাসায় চুলা না জ্বলায় দোকান থেকে খাবার কিনে আনতে হয়।

বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ ছিল।

এলপিজি ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রাখার মতো কঠোর কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারও নড়েচড়ে বসে। এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি আলোচনার জন্য সমিতির নেতাদের ডেকে পাঠায়।

এদিকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ভ্যাট ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স অব্যাহতির সুপারিশ করে। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি দেয়ার কথাও জানানো হয়।

সরবরাহ সংকট, কারসাজির অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযানের মধ্যে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করে দেয়ার পর মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগ নেয়া হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো ‘এলপি গ্যাস আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনঃনির্ধারণ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়, দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে আমদানি করা হয়, যা শিল্পখাত ও গৃহস্থালি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে। সাধারণত শীতকালে বিশ্ববাজারে ও দেশে এলপি গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়ে।

এর আগে ধর্মঘট ডাকার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি সেলিম খান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ২৭টি কোম্পানি সাড়ে পাঁচ কোটি সিলিন্ডার বাজারজাত করছে। এর মধ্যে মাত্র ১ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিল (পুনরায় গ্যাস ভরা) হচ্ছে। অবশিষ্ট ৪ কোটি ২৫ লাখ সিলিন্ডার খালি পড়ে আছে। এতে ডিলারদের খরচও বেড়ে গেছে। বিনিয়োগ আটকে আছে।

তার অভিযোগ, মূলত দুটো কোম্পানি বাজারে সিলিন্ডার না ছাড়াতে এই সংকট তৈরি হয়।

প্রতিমাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে বিইআরসি। গত ডিসেম্বরের পর সর্বশেষ ৪ জানুয়ারি নতুন মূল্য ঘোষণা করে কমিশন। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা, অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা ঠিক করা হয়।

এ দাম যথাযথ নয় বলে দাবি করে আসছেন সরবরাহকারী ও ডিলাররা। যে কারণে কখনোই সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। আগে সবসময়ই ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দিতে হতো। এবার সরবরাহ সংকটের অজুহাতে ১২ কেজির সেই সিলিন্ডারই বিক্রি করা হচ্ছে ২২০০ থেকে ২৪০০ টাকা পর্যন্ত।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

সম্প্রতি