বিস্ফোরণ, আরও একজনের মৃত্যু
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় হাতবোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে এক যুবকের প্রাণ গেছে। এতে আহত হয়েছেন আরও চারজন। পুলিশ বলছে, ‘বোমা তৈরির সময়’ বিস্ফোরণে নিহত যুবকের হাতের কব্জিসহ ঘরের চাল উড়ে যায়। পরে লাশ লুকাতে ঘটনাস্থলের পাশে পেঁয়াজ খেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে লাশ রেখে পালিয়ে যান অন্যরা। ঘটনাস্থল থেকে বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার,( ০৮ জানুয়ারী ২০২৬) ভোরে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি এলাকার সাগর ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ। নিহত সোহান ব্যাপারী (৩২) ওই এলাকার দেলোয়র হোসেন ব্যাপারীর ছেলে। আহতদের গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছে, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিলাসপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জলিল মাদবরের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। মাঝে মধ্যে দুপক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও হাতবোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
ভোরে কুদ্দুস ব্যাপারীর চাচাতো ভাই সাগর ব্যাপারীর সদ্য তৈরি করা বসতঘরে কয়েকজন বোমা তৈরি করছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই সোহান মারা যায়। তার হাতের কব্জিসহ ঘরের চাল উড়ে যায়। পরে তার লাশ পাশের পেঁয়াজ খেতে রেখে পালিয়ে যান সহযোগীরা।
এ বিষয়ে সাগরের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী ভ্যান চালায়। মানুষের থেকে সহযোগিতা নিয়ে ঘরটি তৈরি করেছি। নতুন ঘরে আমরা এখনও থাকা শুরু করি নাই। ভোরে বোমার শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে। ‘পরে জানতে পারি আমাদের নতুন ঘরে নাকি বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। রাতে কে বা কারা ওই ঘরটিতে ছিল জানি না। ঘরে কোনো মালামাল না থাকায় তালা দেয়া হতো না।’
স্থানীয় সাজেদা বেগম বলেন, ‘আগে এলাকায় অনেক মারামারি হতো। দুপক্ষের লোকজন মারামারি করতো। এক বছর ধরে অনেকে জেলে থাকায় ভালই ছিলাম। এখন আবার আগের মত মারামারি শুরু হয়েছে। এ এলাকাটি বোমার এলাকা জানলেও কোনো অভিযান চালায় না পুলিশ।’ রাবেয়া খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম ট্রান্সমিটার ব্লাস্ট হয়েছে। ঘর খুলে দেখি অনেক ধোঁয়া আর কিছু লোক দৌঁড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। একজনের লাশ টানা হেঁচড়া করে পেঁয়াজ খেতের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ওসি সালেহ আহম্মেদ বলেন, সকালে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাগর ঘরটি উড়ে গেছে। পাশাপাশি শত শত বোমা তৈরির সরঞ্জাম আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভীর হাসান বলেন, আহতরা কোথায় চিকিৎসা নিচ্ছেন, তার খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিস্ফোরণ, আরও একজনের মৃত্যু শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ‘বোমা বানানোর সময়’ বিস্ফোরণে আহত আরও এক যুবক মারা গেছেন। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুইজনে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই যুবক মারা যান বলে তার ছোট বোন মরিয়ম আক্তার জানান।
এদিন ভোর ৪টার দিকে উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই বেপারীকান্দি গ্রামের সাগর বেপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদ। নিহত নবীন সরদার (২৮) ওই গ্রামের রহিম সরদারের ছেলে। সকালে ঘটনাস্থলে মারা যান একই এলাকার দেলোয়র হোসেন বেপারীর ছেলে সোহান বেপারী (৩২)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা চলছিল। ভোর ৪টার দিকে একটি বাড়িতে বিকট শব্দ হয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বোমা বিস্ফোরণে একটি ঘরের দেয়াল-চালা উড়ে গেছে। এর কিছু দূরে সোহান বেপারী লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন, যারা গোপনে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে নবীন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে তার ছোট বোন মরিয়ম আক্তার জানান। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ সোহানের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এছাড়া ঘটনাস্থলে থেকে রাসায়নিক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। ওসি সালেহ আহমদ বলেন, নবীন সরদার নামের আরেক যুবকের মৃত্যুর খবর শুনেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে তাকে অফিসিয়ালি কেউ কিছু জানায়নি।
সারাদেশ: মহেশপুর সীমান্তে যুবকের মরদেহ উদ্ধার