মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দিগন্ত জোড়া বিস্তৃত মাঠে হলুদের আভায় চোখ জুড়ায় কৃষকের। যতদূর চোখ যায় যেন মাঠের পর মাঠ জুড়ে হলুদ রংয়ের গালিচা।
মনোমুগ্ধকর হলুদ রঙের পাশাপাশি সরিষার হলুদ ফুলের গন্ধ মাতিয়ে তুলেছে পুরো মাঠ আর প্রান্তর।
পথ চলতে মোহিত পথিক দমকে দাড়ায় হলুদ রঙের সৌন্দর্যে মন ভুলানো আর হৃদয় রাঙানো হলুদ রং আর সুবাসে প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের নান্দনিক রূপে।
গজারিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মাঠে এবার কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরিষা ফুলের মন মাতানো সাজে ভরে গেছে ফসলের মাঠ। সেই সঙ্গে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সরিষা রোপণ মৌসুমে বৃষ্টির কারণে আবাদ দুই সপ্তাহ বিলম্বে শুরু হয়েছিল।
গজারিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৮শ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে আনুমানিক ১ হাজার মেট্রিক টন ।
রোপিত সরিষার মধ্যে সর্বাধিক পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছে বারি-১৪ জাতের সরিষা।
এর পরে পর্যায়ক্রমে রয়েছে বারি-১৮ এই জাতের বীজ বপনে প্রতি হেক্টর জমিতে ১.৬ থেকে ২ মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায় বলে চাষীরা দাবি করছেন।
এছাড়া উপজেলাব্যাপী টরি-৭ উফসি, বারি-১৪, ১৮ ও ২০, এছাড়া বিনা-৯, ১১ ও ১২ জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে।
গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের উত্তরশাহপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, এবার জমিতে সরিষা রোপনের পর ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। যে কারণে সরিষার কোনো ক্ষতি হয়নি। আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি। করিম খাঁ গ্রামের কৃষক সোবহান আলী বলেন, সামনে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৫০ শতক জমিতে সরিষার আবাদ করেছি ৮ থেকে ১০ মণ ফলন পাব বলে আশা করছি।
ষোলআনি গ্রামের কৃষক আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘এবার সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকরা সরিষার বীজ ও সার প্রণোদনা পাওয়ায় অধিক সংখ্যক কৃষকের বেশি পরিমাণ জমিতে শষ্য আবাদ করা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমান বাজারে সরিষার তেল ও খৈলের দামও ভালো পাওয়া যায়।
ভবেরচর ইউনিয়নের আলীপুরা ব্লকের অধিকাংশ কৃষক ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছেন, ফসলের পরিচর্যার নিয়ম ও পরামর্শের জন্য মাঠে কৃষি অফিসের লোকজনের দেখা পাওয়া যায় না। একজন কৃষক আরেকজন কৃষকের পরামর্শ নিয়েই চলতে হয়। এ ব্যাপারে গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল আরাফাত বিন সিদ্দিক বলেন, সরকারের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এ বছর কৃষকদের সার ও বীজ দেয়া হয়েছে। ফলন ভালো পেতে আমরা নিয়মিত কৃষক ভাইদের পরামর্শ দিচ্ছি। এতে যেমন সরিষার ফলন বাড়বে বলেই ধারণা করছি। চলতি সরিষা আবাদ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সরিষা পরিমাণে উৎপাদিত বলে আশা করছি।