আমন ধান কাটার শেষ সময়ে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে কৃষকদের ব্যস্ততা। কৃষকের বহু প্রতীক্ষিত আমন ধান কাটার মৌসুমের শেষ সময় চলছে। আর এই ফসল ঘরে তোলার কাজে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। তবে বাজারে ধানের দাম দিয়ে হতাশ কৃষক। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ধান কাটা। মাঠে এবং বাড়ির আঙিনায় চলছে ধান মাড়াইয়ের মহোৎসব।
কৃষকরা জানান, এ বছর আবহাওয়া তুলনামূলক অনুকূলে থাকায় ফলন বেশ ভালো হয়েছে। একদিকে যেমন কাঁচি দিয়ে ধান কাটার চিরায়ত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, তেমনই শ্রম ও সময় বাঁচাতে কোথাও কোথাও আধুনিক হারভেস্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে ৯৯৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আমান আবাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রতিনিয়তই কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় ও মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বিক তদারকি পরামর্শে এ অঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।
বীরতারা ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান, নূরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর ধানের আবাদ বৃদ্ধি হয়েছে। সময় মতো কৃষি অফিস থেকে বীজ সার ও মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শের কারণে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। ধানের দাম যদি ভালো থাকে তাহলে আমরা কৃষকরা লাভবান হতে পারব। বীরতারা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি খাতকে এগিয়ে নিতে ও কৃষকদের আর্থিকবাবে লাভবান করতে মাঠপর্যায়ে আমরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
‘ধনবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন বেড়েছে। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। এখনও উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় শেষ সময়ে ধান কাটা হচ্ছে। কৃষি বিপ্লবে জড়িত কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানে উপজেলা কৃষি দপ্তর কৃষকদের পাশে রয়েছে সবসময়।’