ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খোশালপুর সীমান্ত এলাকায় গাঙ্গের ভেতর থেকে জুয়েল রানা (২০) নামের এক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্তবর্তী ক্যাম্প এলাকার গাঙ্গের মধ্যে কচুরিপানার ওপর ভাসতে থাকা অবস্থায় স্থানীয়রা লাশটি দেখতে পায়। নিহত জুয়েল রানা খোশালপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম পিএসসি জানান, জুয়েল রানা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। গত বুধবার তিনি সীমান্ত এলাকায় ঘাস কাটতে যান। এরপর বিকেল থেকে পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে গাঙ্গের ভেতরে তার লাশ ভাসতে দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি। নিহতের মা অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে কয়েকদিন ধরে একই গ্রামের তিন যুবকের সঙ্গে সীমান্তে যাতায়াত করত। তারা অবৈধ মালামাল আনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে আমাদের সন্দেহ। ঘটনার দিন ওই তিনজনের মধ্যে দুজন ফিরে এলেও আমার ছেলে আর ফেরেনি। পরে আজ সকালে গাঙ্গের ভেতর তাকে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, সকালে আমরা খবর পাই সীমান্তের গাঙ্গের ভেতর একটি লাশ ভাসছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি সেটি জুয়েল রানার লাশ। বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক এবং সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। উল্লেখ্য, ঘটনার দিনই বিজিবি দিবস উপলক্ষে ৫৮ ব্যাটালিয়নে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি চলছিল। এর মধ্যেই সীমান্ত এলাকায় একটি যুবকের লাশ উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের চিহ্নিত করা হোক।