নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.আবু বাহারকে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তার জায়গায় একজন প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসাদ্দেক হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই চিঠিতে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেনকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম চুন্নুর আনীত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো.আবু বাহারের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকারের বিধানের আলোকে জনস্বার্থে প্যানেল চেয়ারম্যান মো.আবু বাহারের পরিবর্তে বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেনকে একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ করা হলো এ ব্যপারে অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহীম চুন্নু বলেন, প্রায় গত ১৬ মাস দায়িত্ব পালনকালে প্যানেল চেয়ারম্যান মো.আবু বাহার বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। বেশ কিছু প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো কাজ না করে তিনি টাকা উত্তোলন করেন। এক পার্সেন্ট বরাদ্দের ২৮ লক্ষ টাকার কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করে। পরে বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে লিখিত অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে অপসারণ করেন। যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত একলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো.আবু বাহার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে বলেন, এটি আমার বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত। দ্বায়িত্ব পাওয়ার প্রথম থেকেই আমাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে একটি পক্ষ। তারা আমাকে বলেন, আপনি পদত্যাগ করেন, না হলে কমপক্ষে ৩০টি অভিযোগ দেব। আপনি কয়টা মোকাবিলা করবেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ সাদাত হোসেন বলেন, ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে অপসারণ করে আমাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ সচল রাখা এবং জনসেবা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।