ভোলার লালমোহন উপজেলায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিনের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, কোনো ফার্মেসিতেও এই ভ্যাকসিনের মজুত নেই। বর্তমানে উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাস্তাঘাট, মাঠ ও বসতবাড়িতে বিড়াল ও কুকুরের কামড় এবং আঁচরের খরব পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না থাকায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের ভেতর।
লালমোহন উপজেলা বাংলাদেশ ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেনটিটিভ অ্যাসোসিয়েশনের (ফারিয়া) সভাপতি মো. হাসান পাটোয়ারী বলেন, কয়েক মাস ধরে কোম্পানি থেকে জলাতঙ্কের (রেবিক্স) ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তাই আমরা ফার্মেসিগুলোতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারছি না। এজন্য আক্রান্ত রোগীরা ঢাকা থেকে ভ্যাকসিন আনছেন। তবে ঢাকা থেকে আনা ভ্যাকসিনগুলো যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না আনা হয় তাহলে গুনগতমান নষ্ট হয়ে যায়।
শান্তা ইসলাম নামে এক গৃহবধূ জানান, অসাবধানতাবশত আমাকে বিড়াল আঁচর দেয়। এরপর লালমোহন হাসপাতালে যাই। সেখানে গিয়ে ভ্যাকসিন পাইনি। এছাড়া পৌরশহরের অনেক ফার্মেসি খুঁজেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে ঢাকা থেকে ভ্যাকসিন আনিয়েছি।
লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ থাকায় নতুন করে কাউকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিশু ও নি¤œআয়ের মানুষজন। কারণ তাদের পক্ষে জেলা শহর বা ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব না।
এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, জলাতঙ্ক একটি শতভাগ প্রাণঘাতী রোগ। আক্রান্ত প্রাণির কামড় বা আঁচড়ের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন গ্রহণ না করলে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। একবার রোগের লক্ষণ দেখা দিলে কার্যকর চিকিৎসা আর থাকে না। এ অবস্থায় আক্রান্ত রোগী দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এলাকায় জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়। একই সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, রোগী ও পরিবারের মানসিক চাপ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, সরকারিভাবে এই ভ্যাকসিনটি দীর্ঘদিন ধরে সরবরাহ নেই। এই বিষয়টি নিয়ে আমরা ব্যাপক বিপাকে রয়েছি। বিকল্প ব্যবস্থা ছিল ওষুধ কোম্পানির ওপর। এখন কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকেও এই ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে না। এটি আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য চরম বিপদজ্জনক। তবে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য আবেদন করবো।