image

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শ্রীমঙ্গল

প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

শ্রীমঙ্গল, যা বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার সুপ্রসিদ্ধ চা নগরী হিসেবে পরিচিত, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত। সিলেট সদর থেকে ৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মৌলভীবাজার সদর থেকে ১৩ মাইল দূরে অবস্থিত এই অঞ্চল প্রাচীন ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ। পাহাড়ের পাদদেশে চা বাগান ও বনাঞ্চলের সৌন্দর্য, ঝর্ণার শোভা এবং পর্যটন কেন্দ্রের জন্য শ্রীমঙ্গল বিশেষভাবে পরিচিত।

শ্রীমঙ্গল শুধুমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলন ও সমাজিক সংগ্রামের ক্ষেত্রেও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় শ্রীমঙ্গল এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় জনগণ বিদেশি পণ্য বর্জন এবং দেশি বস্ত্র পরিধানের মাধ্যমে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শুরু করে। শ্রীমঙ্গলের স্বাধীনতাকামী নেতা ও সাধারণ মানুষ ব্রিটিশ সুতিবস্ত্র বর্জন, দেশি পণ্যের প্রচার এবং জনমত গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং খেলাফত আন্দোলনের জোয়ার শ্রীমঙ্গলেও প্রবাহিত হয়। ১৯২১ সালের ১৫ মার্চ শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনে দেশবন্দু চিত্তরঞ্জন দাস, শ্রীমতি বাসন্তী দেবী এবং মৌলানা মোহাম্মদ আলীকে সংবর্ধনা জানানো হয়। ১৯২৮ সালে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে মৃত্যুশয্যায় অনশনরত যতীন দাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শ্রীমঙ্গলে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

৩০-এর দশকে শ্রীমঙ্গলের পুরান বাজারের ক্ষীরদ বিহারী দেব চৌধুরী ( কে বি দেব চৌধুরী) কংগ্রেসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং পরবর্তীকালে ফরওয়ার্ড ব্লকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। শ্রীমঙ্গলের পুরান বাজার এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি স্থানীয় জনগণকে সংগঠিত করতে এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

১৯৩৮ সালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু শ্রীমঙ্গলে এসে জনসভায় ভাষণ দেন। এছাড়াও ১৯৩৬, ১৯৩৮, ১৯৪৫ ও ১৯৪৬ সালে প-িত জহরলাল নেহেরু শ্রীমঙ্গলে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও গণভোটের প্রয়োজনীয় বক্তব্য প্রদান করেন। ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারত ছাড়ো আন্দোলন শ্রীমঙ্গলেও জোয়ার নিয়ে আসে। মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা নীতি অনুসরণ না করে বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ কংগ্রেস থেকে ছড়িয়ে পড়ে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে আজাদ হিন্দ ফৌজের সমর্থক শ্রীমঙ্গলের কিছু নেতা ও জনগণ সশস্ত্র সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের উত্থাপনের পর স্থানীয় রাজনীতি বিস্তৃত হয়। ১৯৪৭ সালে গণভোটে শ্রীমঙ্গলে ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষে জনমত প্রভাবিত হয়। ভূনবীর এলাকার লাকু দত্ত (ভুনবীর) ভারতীয় অন্তর্ভুক্তির পক্ষে প্রচারণা চালান। পাকিস্তানের পক্ষে ভোট পড়ে ২ লাখ ৩৯,৬১৯ এবং ভারতে যোগদানের পক্ষে পড়ে ১ লাখ ৮৪,০৪১। মুসলিম লীগের অধিক সংখ্যক ভোটের কারণে তৎকালীন সিলেট জেলাসহ শ্রীমঙ্গল এলাকা পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ‘বোমা বানানোর সময়’ নিহত ২, ঘটনাস্থলে বোমা বিশেষজ্ঞ দল, আটক ৩

» মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

» পলাশে শত বাহারি পিঠা উৎসব

সম্প্রতি