image
শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় আগুন জালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা -সংবাদ

বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

সারাদেশে কোথাও মৃদু, কোথাও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাতভর বৃষ্টির মতো ঝড়ে কুয়াশা। সকালের দিকেও কুয়াশাচ্ছন্ন থাকে পথঘাট। ঘন কুয়াশায় যেন দৃষ্টিসীমাও সীমাবদ্ধ। সঙ্গে কনকনে শীতে কাবু বিভিন্ন জনপদ। হাড় কাঁপানো শীতের তীব্র যন্ত্রণা ঝেকে বসেছে সারাদেশে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শুক্রবার, (০৯ জানুয়ারী ২০২৬) সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে বইছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জেঁকে বসেছে হাড় কাঁপানো শীত। এতে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। কিছুদিন ধরেই এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা একটু বেশি। কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাত বাড়তে থাকলে বাড়ে শীতের দাপট। সকাল অবধি ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে পথঘাট। সেভাবে সূর্যেরও দেখা মেলে না।

এদিকে কনকনে শীতে দুর্ভোগে রয়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষরা। সময়মতো কাজে যেতে পারছেন না শ্রমজীবীরা। বিপাকে যানবাহন চালকরাও। তাদের সকালের দিকেও হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচল করতে হচ্ছে। শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেকেই খড়খুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১০/১২ কিলোমিটার। রাতভর উত্তরের হিম বাতাসের সঙ্গে ছিল ঘন কুয়াশার দাপট, যা ছিল সকাল পর্যন্ত। তবে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য, ছড়িয়ে পড়ছে মিষ্টি রোদ। কিন্তু ঠাণ্ডার অনুভূতি কমেনি। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঘন কুয়াশা থাকলেও দুপুর নাগাদ দেখা মিলেছিল রোদের। এতে দিনভর কিছুটা স্বস্তি ছিল জনমনে। সেদিন বিকেলে তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সন্ধ্যা নামতেই শুরু হয় হিমেল বাতাসের দাপট। রাতভর টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকে কুয়াশা। এতে অনুভূত হয় হাড় কাঁপানো শীত।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশের কোনো এলাকায় ২-৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় এবং ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে তাপমাত্রা বিরাজ করলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেছে চারদিক। মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলাচল করছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। কনকনে শীতে গ্রামের বেশিরভাগ পথেই সুনসান নীরবতা। প্রয়োজনের তাগিদে গায়ে গরম কাপড় জড়িয়ে বের হয়েছে সাধারণ মানুষ। শ্রমজীবীদের কেউ কৃষিকাজ আবার কেউবা অন্য কাজে বের হয়েছেন। কেউ কেউ আবার খড়কুটো জ্বালিয়ে করছেন শীত নিবারণের চেষ্টা। সকাল ১০টার পর হালকা রোদ ওঠায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, ‘তেঁতুলিয়ায় বর্তমানে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখানেই রেকর্ড করা হয়েছে। তবে দিনের বেলা রোদের দেখা মেলায় মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।’

কুড়িগ্রামে কয়েকদিনে শীত ও ঠাণ্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে করে নিম্ন ও দরিদ্র আয়ের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।

শুক্রবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান। কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলার নয় উপজেলায় যথাযথভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ‘বোমা বানানোর সময়’ নিহত ২, ঘটনাস্থলে বোমা বিশেষজ্ঞ দল, আটক ৩

» মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

» পলাশে শত বাহারি পিঠা উৎসব

সম্প্রতি