image
সীতাকুণ্ড(চট্টগ্রাম) : আকর্ষণীয় ও বর্ণিল সাজে নতুন রূপে সেজেছে চট্টগ্রাম ডিসি পাক -সংবাদ

সীতাকুণ্ড ডিসি পার্কে মাসব্যাপী ফুল উৎসবের উদ্বোধন

১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারো

প্রতিনিধি, সীতাকু- (চট্টগ্রাম)

আকর্ষণীয় ও বর্ণিল সাজে নতুন রূপে সেজেছে চট্টগ্রাম ডিসি পার্ক। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন সলিমপুর ইউনিয়নস্থ সাগরপাড়ে ১৯৪ একর জমির উপর গড়ে উঠা ডিসি পার্ক এবার সেজেছে মনোমুগ্ধকর নতুন রূপে। প্রতি বছরের মতো এবারও ডিসি পার্কে চতুর্থবারের মতো দেশের বৃহত্তম ফুল উৎসব চট্টগ্রাম ফুল উৎসব ২০২৬ এর আয়োজন করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া মাসব্যাপী এ আয়োজনে রয়েছে দেশি-বিদেশি প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক ফুলের সমারোহ। এবার ডিসি পার্কে নতুন আকর্ষণ হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি, ফ্লাওয়ার টি। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি এই উৎসবে দর্শনার্থীরা প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন। এ বছরের অন্যান্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাসব্যাপী গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার লাইট শো, ভিআর গেইম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ, মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যাল। এ ছাড়া এই উৎসবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর প্রচারণার একটি বিশেষ স্টল রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে মাসব্যাপী এ ফুল উৎসব, আর এ উৎসব চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মো. এহছানুল হক, সিনিয়র সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. জিয়াউদ্দীন, বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম, হাসিব আজিজ, পুলিশ কমিশনার, সিএমপি, মো. আহসান হাবীব পলাশ, ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম প্রমুখ।

এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, ফুল উৎসব শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয় বরং তা সারা দেশের মানুষের। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ পুরো বাংলাদেশের জন্য নজির হয়ে থাকবে। আমাদের ফুলের মতো পবিত্র হতে হবে। পুরো দেশের মানুষ এখানে এসে আন্দন উপভোগ করতে পারবে।

আয়োজকদের তথ্য মতে, চতুর্থ বার আয়োজিত এবারের ফুল উৎসবে দেশি বিদেশি মিলিয়ে ১৪০ প্রজাতির নানা রঙের ফুল দিয়ে এই উৎসব সাজানো হয়েছে। প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। এবার ২০ লাখের মত দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফুল ও জলাশয়ের সমন্বয়ে পার্কটি একটি ইকো সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। এতে প্রজাপতি, মৌমাছি, পানকৌড় ও রঙিন মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। পার্কের মূল ফটকের ভিতের পুকুরের দুই পাশ জুড়ে ফুল দিয়ে তৈরি জায়ান্ট ফ্লাওয়ার, ট্রি হাউস, ট্রিফল হার্ট শেলফ, ট্রেন, বক সহ অন্যান্য আনুষাঙ্গিক ব্যবহার করে নান্দিক স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। পার্কের জলাশয়ে নৌকার আয়োজন করা হয়। দর্শানার্থীদের জন্য ফুড কোর্ট, বসার স্থান, সেলফি কর্নার, হাটার উন্মুক্ত স্থান, টিউলিপ গার্ডেন ও পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পার্কের মাঝখানে বিশাল পুকুরকে কেন্দ্র করে সুবিশাল ফুলের বাগান বানানো হয়েছে। বাহারি ফুলের সবাসে চারপাশ মুখরিত হয়ে উঠেছে।

‘সারাদেশ’ : আরও খবর

» ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২৫

» ২০২৫ সালে সড়কে মৃত্যুর ৩৬% মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা

সম্প্রতি