চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মুজিবনগরে বসবাসকারী প্রায় ২০ হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বাস্থ্য খাতে চরম অবহেলার কারণে দ্বীপবাসীর দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মুজিবনগর দ্বীপে একটি ক্লিনিকও নেই। কোন ধরনের ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে সাধারণ রোগেও মানুষকে নির্ভর করতে হয় স্থানীয় ঝাড়ফুঁক বা অনভিজ্ঞ চিকিৎসার ওপর। দ্বীপটির মূল ভূখন্ড থেকে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে নৌকাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়া, নদীর স্রোত ও নৌযানের স্বল্পতার কারণে অনেক সময় রোগী পরিবহন সম্ভব হয় না। যদি রাতে কোন বেক্তি অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে একেবারেই নদী পার হওয়া যায় না। এতে করে জরুরি রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্সও নেই।
স্থানীয় ফজল মাঝি বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগ থেকে মুজিনবগর ইউনিয়নে বসবাস করে আসছি। প্রথম থেকে এখনও অব্দি একটি ক্লিনিকও সরকার স্থাপন করেনি। মূল ভূখন্ডে যেতে আমাদের নদী পার হতে হয়। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। আমরা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছি। কারন কোন একজন ব্যক্তি গুরুত্বর অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়না। বিবি কুলছুম বলেন, দিন রাতেই একজন ধাত্রী মহিলা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাচ্চা ডেলিভারি করাই।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে মুজিবনগর দ্বীপের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট বিষয়টি অবগত করব।