সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখলা এলাকায় অবস্থিত মনোরম মাধবপুর লেক যেন প্রকৃতির আঁচলে বাঁধা এক টুকরো নীল স্বপ্ন। সীমান্তঘেঁষা এই হ্রদটি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ধলাই জেলার সন্নিকটে অবস্থান করছে।
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে, ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (ঘঞঈ)-এর অধীন মাধবপুর চা বাগানের ১১ নম্বর সেকশন পাত্রখলায় অবস্থিত এই হ্রদ আজ পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং শ্রীমঙ্গল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্বে বিস্তৃত এই এলাকা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে যেন এক অজানা সৌন্দর্যের খনি।
ইতিহাস বলছে, চা চাষের প্রথম যুগে মাধবপুর ও পাত্রখলা চা বাগান দুটির মালিক ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক থমাস মেকমিকিন। পরবর্তীকালে মালিকানায় পরিবর্তন আসে, কিন্তু এই এলাকার প্রাকৃতিক ঐশ্বর্য অমলিন থেকে যায়। মণিপুরী সম্প্রদায় অধ্যুষিত কমলগঞ্জের এই জনপদে ১৯৬৫ সালে মাধবপুর চা বাগানের কর্তৃপক্ষ তিনটি পাহাড় টিলার মাঝখানে বাঁধ নির্মাণ করে পানি ধরে রেখে সৃষ্টি করেন আজকের বিখ্যাত মাধবপুর লেক।
চা বাগানের সবুজ পাহাড়, কুয়াশায় মোড়া সকাল আর নীল জলের আয়না—এই তিনের মিলনে গড়ে ওঠা মাধবপুর লেক আজ বাংলাদেশের অন্যতম রোমাঞ্চকর প্রাকৃতিক গন্তব্য। এটি শুধু একটি হ্রদ নয়, বরং ইতিহাস, পরিশ্রম ও প্রকৃতির মিলিত সৌন্দর্যের এক অনুপম দৃষ্টান্ত।