দুর্গাপুরে পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই
নেত্রকোনার দুর্গাপুর ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার বড় বড় হাট বাজারে অত্যন্ত কৌশলে সরকারি বিধি উপেক্ষা করে কোন পরীক্ষ ছাড়াই রোগাক্রান্ত গরু, খাশি, মহিষ এর পচা মাংসে লাল রং মিশিয়ে ফ্রিজজাত করে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রখ্যাত ঝানজাইল বাজার, কুমুদঞ্জ বাজার, শিবগঞ্জ বাজার ও পৌরসভার ভেতর মাংস বাজারে এ সমস্ত পচা মাংস বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাস্তার পাশে নোংরা পরিবেশে পশু জবাই করা হয়ে থাকে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়। এগুলো দেখার যেন কেউ নেই।
সরকারি বিধান হচ্ছে পশু জবাই করার পূর্বে পশুটি রোগমুক্ত কিনা তা একজন পশু ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করে অনুমোদিত কসাইখানায় গিয়ে মাংসের ওপর সিল মেরে বিক্রি করার অনুমতি প্রদান করতে হবে। বর্তমানে এই আইনের মাংস মহালে কোন বালাই নেই। বাজারগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে মাংস বিক্রিকারীদের কোন লাইসেন্স নেই। নাজিরপুর বাজার, লেঙ্গুরা বাজার, চারুয়াপাড়া বাজার, হুগলা বাজার, সিধলী বাজার, পাঁচকাঠা বাজারের মতো বড় বড় বাজারগুলোতে এমনি চিত্র পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক মাংস বিক্রয়কারী এই প্রতিবেদককে জানান, স্বাস্থ্য সনদ কি- তা জানেন না। তাদের মাংস বিক্রি করতে হলে লাইসেন্স লাগবে এটা তাদেরকে কেউ বলেনি। এই সুযোগে কিছু লোক সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে কিছু মাংস ও অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে তারা জানান। এ ব্যাপারে দুর্গাপুর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অজিত দত্ত সংবাদকে বলেন, আমরা প্রতিবছর মাংস বিক্রেতাদের নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করার জন্য মিটিং করে সরকারি আইন মানার জন্য হাতে হাতে ফরম দেওয়া হয়ে থাকে। এরপরও তারা আর আসে না। আমাদের জনবল কম থাকায় কিছু করতে পারনি না। নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ ভোক্তা ও সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর উপ-পরিচালক রীনা বেগম জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহে দুর্গাপুর উপজেলার বৃহৎ মাংস বাজার পুলিশ মোড় দক্ষীণপাড়া মাংস মহলে অভিযান পরিচালনা করে ‘ফ্রিজ জাত গরুর মংস ও ভেজাল শিও খাদ্য’ বিক্রি করার দায়ে ১০ জন মাংস বিক্রেতাকে সর্বমোট ৩৫ হাজার টাকা অর্থ দণ্ড দেন।