দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গা জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সূর্যের দেখা মিললেও উত্তরের হিমেল হাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরোও বেড়ে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
তীব্র শীতের কারণে ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন
জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। অনেকেই জানান, শীতের প্রকোপে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্রমজীবী মানুষদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। এক কৃষক বলেন, ভোরে কাজের জন্য বের হলেই হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় যেন ফ্রিজের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। তারপরও পেটের দায়ে বের হতে হয়। অনেক সময় কাজ না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তীব্র শীতের প্রভাবে সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শীতের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা জানান, বেলা ১১টার আগে খুব একটা ক্রেতার দেখা মিলছে না। এ দিকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাড়িয়েছে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল ও শীতবস্ত্র বিতরণ করছে।