তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন মাদারীপুরের কৃষকরা। কনকনে ঠান্ডায় বোরো বীজের চারা হলদে হয়ে পাতা পচে নষ্ট হচ্ছে। বীজতলা এভাবে নষ্ট হয়ে গেলে বোরো ধান চাষের খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। মাদারীপুর কৃষি বিভাগ বলছে, শীতে দেরিতে রোপণ করা বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, কীটনাশক ছিড়ানোসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের গৈদী এলাকার কৃষক এঞ্জেল হক বেপারী। এবছর তিনি তার পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপনের জন্য ৫শ টাকা কেজি দরে শক্তি-২ এবং হীরা জাতের বীজ ক্রয় করে গত ২৫ দিন আগে বীজতলা তৈরি করেছেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে মাদারীপুরে তীব্র শীত ও কুয়াশার সঙ্গে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ থাকায় বীজতলার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক বীজ থেকে চারা গজায়নি। আবার গজানো চারার পাতা কালচে রং ধারণ করে পাতা মরে যাচেছ। বীজতলার এমন পরিস্থিতি দেখে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন ধান চাষি এঞ্জেল হক বেপারী। শুধু তিনিই নন। মাদারীপুরের ৫টি উপজেলা জুড়েই ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার দাপট তীব্র আকারে থাকায় অনেক কৃষকই বীজতলা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মাদারীপুর আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়া কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে দেখা নেই সূর্যের। সপ্তাহের মাঝে দুদিন দুপুরে রোদের আলো কিছুটা মিললেও কমেনি শীতের তীব্রতা রয়েছে। সেই সঙ্গে সন্ধ্যা হলেই পড়ছে কুয়াশা। গতকাল শনিবার থেকে আবারও তাপমাত্রা কমে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে এসেছে। তবে রোববারের পর থেকে দিনে কিছুটা রোদ উঠার সম্ভবনা রয়েছে।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার কৃষক নিরঞ্জন বাড়ৈ বলেন, হাড়কাঁপানো শীতে মাঠে কাজ করতে গিয়ে কাজ করতে পারছি না। এই শীতে কোনো শ্রমিকও মাঠে কাজ করতে চায় না। তাই শীতে রোগবালাইয়ে আক্রমণের শিকার হওয়া বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে শুধু আমি না। এই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
মাদারীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপ্তি রানী সরকার জানিয়েছন, ইতোমধ্যে যেসব খেতের বীজতলার চারা বড় হয়ে গেছে, সেগুলো ক্ষতির আশঙ্কা নাই। দেরিতে রোপণ করা বোরো বীজতলা এই ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় কিছু নষ্টের শঙ্কা রয়েছে। শীতে দেরিতে রোপণ করা বোরো বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বীজতলা রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, কীটনাশক ছিড়ানোসহ বিভিন্ন পরামর্শ কৃষকদের দিচ্ছেন। তিনি আশা করছেন, সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবেন কৃষকরা।
মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে এবার মাদারীপুর জেলার ৫টি উপজেলায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে ১ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা রোপণ হয়েছে।