বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বনবিদ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ বলেছেন, দীর্ঘ দিন পর বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের ফরেস্টারদের পদোন্নতি পাওয়ায় ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে। ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বন সচিব ও প্রধান বন সংরক্ষকের প্রতি। তিনি বলেন, পরিবেশ বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, সচি ও প্রধান বন সংরক্ষকের সানুগ্রহেই তাদের পদোন্নতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ দিনের পদোন্নতি বঞ্চিত সারা দেশে ৪৫৩ জন ফরেস্টার পদোন্নতি পেয়ে ডেপুটি রেঞ্জার পদোন্নতিপ্রাপ্ত হয়। তিনি বলেন, কিন্তু তাদের মধ্যে এক শ্রেণীর কিছু অসাধু ও অনৈতিক কাজে জড়িত বন কর্মকর্তা রতন লাল মোহত গং যারা বন বিভাগে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার কারণে বিধিমতে সাজাপ্রাপ্ত তারা। যাতে ডেপুটি রেঞ্জার হতে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতি না হয় সেজন্য তারা অসত্য তথ্য উপাত্ত দিয়ে না জায়গায় অভিযোগ ও মামলা দায়ের করে আসছে বলে তিনি জানান। আব্দুল আহাদ আরও বলেন, নিজেদের পদোন্নতি হচ্ছে না বলে তারা সরকারি কাজে তারা বাধা দিচ্ছে। তারা বন বিভাগের বিধিমতে সাজাপ্রাপ্ত বলে উল্লেখ করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
সেই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সারা দেশে ২৮৯ জন ডেপুটি রেঞ্জার থেকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতি কার্যক্রম তরান্বিত করার জোর দাবি জানান।
জানা যায়, প্রায় ৩৬ বছর পর বন বিভাগের মাঠ পর্যায়ে ফরেস্টারদের পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতি পেয়ে তারা হয়েছে ডেপুটি রেঞ্জার। ফরেস্টার পদে বন বিভাগে চাকরিতে যোগদান করে একই পদে তাদের কেটেছে কারও ২৫ বছর, কারও ৩০ বছর, কারও ৩৬ বছর, কারও কারও কর্মজীবননে কেটে গেছে ৩৬টি বছর। পদোন্নতিহীন চাকরি জীবনে তারা দেশোর বিভিন্ন প্রান্তের বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নানা জটিলতার কারণে পদোন্নতি না পেলেও অবশেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তাদের বহু কাক্সিক্ষত পদোন্নতি পেলে তারা খুব খুশি ও আনন্দিত। বন বিভাগের মাঠপর্যায়ে বেড়েছে তাদের কর্মস্পৃহা, প্রাণচাঞ্চল্য বনাঞ্চলে এমটাই জানিয়েছে পদোন্নতি প্রাপ্তরা। তবে বন কর্মকর্তারা বলছে, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করে বিভিন্ন জটিলতার কারণে দীর্ঘ দিন তাদের পদোন্নতি না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে পদোন্নতি হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মস্পৃহা বেড়েছে, বাড়ছে প্রাণচাঞ্চতা।
দেশের বন ও বনজ সম্পদ রক্ষায় রাত দিন মাঠ পর্যায়ে শ্রম ঘাম দিয়ে থাকে। বন বিভাগের বনভূমি, বন, বনজ সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে জীবন বাজিও রাখতে হয়। বনখেকো, বনদস্যুদের আক্রমনে হামলা মামলা শিকারও হয়েও দায়িত্ব পালন করে আসছে। ছুটে চলতে হয়েছে ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে। নার্সারি করা, চারা উত্তোলন, বনায়ন, জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। এভাবে কারো ২৫ বছর, কারো ৩০ বছর, কারো ৩৬ বছর কেটে গেছে। নানা জটিলতার কারণে প্রায় তিন যুগ পর বন বিভাগে প্রায় ৪ শতাধিক ফরেস্টার থেকে ডেপুটি রেঞ্জার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। এ প্রাপ্তি তাদের কাছে চাকরি জীবনের জন্য বড়প্রাপ্তি বলে জানিয়েছে তারা।
ফলে মাঠপর্যায়ে আগের চেয়ে কর্মস্পৃহা বেড়েছে, বনাঞ্চলে প্রাণচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। রাত-দিন দেশের বনজ সম্পদ রক্ষা, বনায়ন, বণ্যপ্রাণীসহ বিভিন্ন কাজে তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এমনটাই জানিয়েছে মাঠ পর্যায়ের পদোন্নতিপ্রাপ্তরা। এখন আবার ডেপুটি রেঞ্জার থেকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতি কার্য়ক্রম চলমান। এসব তথ্য বনবিদ পরিষদ থেকে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বনবিদ কেন্দ্রীয় পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ জানিয়েছে, প্রথম ধাপে সারা দেশে ২৮৯ জন ডেপুটি রেঞ্জার থেকে ফরেস্ট রেঞ্জার পদে পদোন্নতি হবে এই সময়ে। যার কার্যক্রম চলমান। কিন্তু বন বিভাগের কিছু ডেপুটি রেঞ্জার বিধিগতভাবে এ ধাপে পদোন্নতির সুযোগ না পেয়ে অসত্য উপাত্ত দিয়ে পদোন্নতি কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি দ্রুত পদোন্নতি কার্যক্রমকে তরান্বিত করে পদোন্নতির দাবি জানান।
তবে বন বিভাগের রতন লাল মোহত এ বিষয় কথা বলতে রাজী হয়নি। তিনি জানান, বন বিভাগের কথা বাইরে বলতা যাবে না। পদোন্নতির বিষয়ে প্রসিকিউর মেইনটেইন করে যেভাবে হয়, সেভাবেই হবে। তবে সারা দেশে পদোন্নতি কার্যক্রমে যারা রয়েছে তারা দ্রুত পদোন্নতি কার্যক্রম তরান্বিত করার দাবি জানান।